সায়েম সোবহান আনভীরের ফাইল ছবি

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

গুলশানের আলোচিত সেই ফ্ল্যাটে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে। গুলশান-২ এর ১২০ নম্বর সড়কের সেই ভবনটিতে সংযুক্ত ক্লোজসার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পুলিশের হাতে এই প্রমাণ এসেছে। এই ভবনেই থাকতেন মৃত কলেজপড়ুয়া তরুণী, যাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে আনভীরের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদকর্মীদের জানান এ তথ্য।

ডিসি সুদীপ জানান, ফ্ল্যাটে কারো সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি পাওয়া যায়নি। ঘটনার দিন বা তার আগের দিন বসুন্ধরার এমডিকে সেখানে না দেখা গেলেও তার আগে পর পর দুদিন ওই ফ্ল্যাটে তার যাতায়াতের সিসি ফুটেজ পুলিশের হাতে রয়েছে।

পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত মোসারাত জাহানের মুনিয়ার নিজ হাতে লেখা ৬টি ডায়েরি এই আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে তারা বিবেচনা করছেন। সে অনুযায়ী তারা অন্যান্য সাক্ষ্য গ্রহণ করছেন।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে সাক্ষ্যপ্রমাণ আগে সংগ্রহের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি না, জানতে চাইলে পুলিশ উপকমিশনার বলেন, “প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী যেকোনো মামলায় আসামি ধরায় কোনো বাধা নেই। আত্মহত্যার অভিপ্রায় এবং প্ররোচনাকে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে আদালতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মামলার অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করা ও একসঙ্গে নিয়ে আসা জরুরি। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আগে পুলিশ এই কাজগুলো আগে করতে চায়।”

সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা ভিকটিমকে ন্যায়বিচার দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ কাজটা করতে চাই। যেহেতু মামলাটি বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলা। তাই ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার দিতে সবাই মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং মূলত আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবাই কাজ করবো।”