।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

গুলশানের ফ্ল্যটে কলেজপড়ুয়া তরুণীর আলোচিত মৃত্যুটি আত্মহত্যা কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বড়বোন ও মামলার বাদী ইসরাত জাহান তানিয়া। তিনি দাবি করেছেন, সোমবার (২৬ এপ্রিল) দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢোকার পর ফ্যানের সঙ্গে তার বোনের মরদেহ ঝুলতে দেখলেও তার পা ছিলো বাঁকানো ও খাটের সঙ্গে লাগানো। এভাবে আত্মহত্যা সম্ভব কি না সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন তিনি।

গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। রাতেই তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনার ব্যাপারে বাদী বলেন, “সেই সময় আমি দিশাহারা অবস্থায় ছিলাম। এতোসব চিন্তা করার মতো পরিস্থিতিও ছিলো না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এটা আদৌ হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে ব্যাপারটা আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার।”

যেসব বিষয়ে তার খটকা লেগেছে, সেগুলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২২ ও ২৩ তারিখে আনভীর এসেছিলো। ওর সঙ্গে বাইরেও বেরিয়েছিলো। এরপর ফোনে কথা হয়েছে। সেই সময় তার কথায় মনে হয়নি যে, সে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে সে সমস্যায় পরতে যাচ্ছে এটা বলেছিলো ঘটনার দিন সকালে। তার মানে সে খারাপ কিছুর আশঙ্কা করেছিলো। আর সে যেহেতু জানতো যে, আমরা আসছি, সেক্ষেত্রে হুট করে কেন আত্মহত্যা করবে?”

তিনি আরও বলেন, “তার লাশটা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলো। কিন্তু তার পা ছিলো সামান্য বাঁকা হয়ে খাটের সঙ্গে লাগানো। একটা টুল ছিলো ওর পায়ের মাঝখানে। সেটাও দাঁড়ানোই ছিলো। এভাবে একজন মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে হয় না। তার ওপর পুরো ঘর পরিপাটি, এমনকি তার বিছানাটাও ছিলো গোছানো। এতোটুকু ভাঁজও ছিলো না কোথাও। এভাবে কেউ আত্মহত্যা করে কীভাবে?”

তিনি দাবি করেন, মুনিয়ার মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ সম্পর্কের কিছু ছবি, ভিডিও এবং ডকুমেন্টস মুনিয়ার মোবাইল ফোনে সংগ্রহ ছিল। ডকুমেন্টগুলো উদ্ধারের জন্য ৫০ লাখ টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ, মানসিকভাবে হ্যারাসমেন্ট করা হয়।

গত ৪ এপ্রিল কুমিল্লায় মোসারাত জাহান মুনিয়া বোনের বাসায় যান। ১২ এপ্রিল ঢাকায় ফেরার সময় বলেছিলেন, আনভীর দেশের বাইরে থেকে ফিরছেন। তাই তাকে ঢাকা যেতে বলেছেন। নুসরাত বলেন, “মুনিয়া কুমিল্লায় যে কয়দিন ছিল প্রায় বলতো, আনভীর তার মোবাইল ফোন অসংখ্যবার ছিনিয়ে নেওয়ার এবং লুকানোর চেষ্টা করে। বনানী থেকে গুলশানে ওঠার আগে কুমিল্লায় চলে আসে মুনিয়া। তখন সে বলেছিল, আনভীর মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। মোবাইলে থাকা সম্পর্কের ডকুমেন্টস উদ্ধারের জন্যই আনভীর আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, “পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। তবে মেয়েটির মৃত্যু কীভাবে হলো, সেটা বের করাই এখন আমাদের বড় কাজ।” 

ডিসি জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, মোসারাত আত্মহত্যা করেছেন। শরীরের অন্য কোথাও জখম বা আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ঝুলে থাকায় হাত-পা নীল হয়ে গিয়েছিল এবং কিছুটা ফুলে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটি নিহতের মরদেহ ফ্যান থেকে খুলে বিছানায় রাখার পর তার ঘরের। সংগৃহীত ছবিটিতে উত্তরকাল সম্পাদকীয় নীতির কারণে মরদেহটির জায়গায় স্কেচ ব্যবহার করেছে।