সেতু

ঈশান মেঘের মজলিশে মাঠ ভরেছে সংশয়
চলে যাওয়া সহজ অনেক, বলে যাওয়া নয়…

এক পা দু পা পিছয় নদী যতই বাড়ে জল…
রাস্তা পিছয়, ডুবছে সিঁড়ি, দেখছে ঘাসের দল,
ডুবছে শিকড়, পাতাল থেকে আকাশ দেখে ধোঁয়া…
ফাঁটল বেড়ে ভাঙছে সেতু; মেঘ পুরুষের ছোঁয়া
রাত ডেকেছে, ভরদুপুরেই, আবেগে নয়ছয়
পিষে যাওয়া সহজ অনেক, মিশে যাওয়া নয়…

ঈশান কোণের সঙ্গীতে আজ সমস্ত সঞ্চয়
ঢেলে দেওয়া সহজ অনেক, মেলে দেওয়া নয়…
ভাঙা সেতুর নিচ থেকে রোজ একটি দুটি লাশ
উঠছে ভেসে, ডুবছে আবার, গন্ধ বারোমাস…
লোহা জমে পাথর জমে পথ হারানো নদী
থমকে আছে, হঠাৎ এবার, পথ খুঁজে নেয় যদি
ডুবতে আমার আপত্তি নেই, মেঘটুকুতেই ভয়
ফেঁসে যাওয়া সহজ অনেক, ভেসে যাওয়া নয়…

ঈশান সেতুর ঠিক নিচে রাত, ভেঙেছে সংশয়
জেগে থাকা সহজ অনেক, লেগে থাকা নয়…

ময়ূর

দীর্ঘদিন অসুস্থ আমি…
মিনিট-সেকেন্ড-দিন-মাস
উদরস্থ, ঊর্ণনাভ ক্ষুধার্ত তবু
দলবৃত্তে ভেজা অনুপ্রাস…

দীর্ঘদিন অশক্ত পাখি…
মেঘ ডাকলে তবু তার
ঐশ্বর্যযাপন…
কিছু কিছু অভ্যাসে ভালোবাসা দেখি
কিছু কিছু ভালোবাসা
মেঘলা পার্বণ…

পাখিতে কবিতে একাকার…
জঙ্গলে অভাবি বিছানা
কলাপে প্রলাপে বাঁধা তার

চেতনায় উড়ে যায় অডিস্টিক ডানা…

সোয়েটার

পাল ছেঁড়া রক্তের স্বাদ
পেয়েছিলে; আধখানা চাঁদ
ডুব দিল যেই নাক টিপে
শীতপাকা রাত গাঁথি ছিপে…

ডোরবেলে সনাতন ক্ষত
থম মেরে—অপেক্ষারত
কুয়াশার খোলামেলা ডাক
নিমপ্যাঁচা, ভোর হবে কাক…

হাড়কাঁপা শহুরে জঞ্জালে
ঝুম চাষি দাবানল জ্বালে…
নগরে পেখম ম্যালে আলো
সোয়েটারে পোষ মানি ভালো…

নাগরিক শৈত্য মিছিলে
ভালোবাসা তুমি গিয়েছিলে?
কাকের পেখমে লেগে ছাই
আধপাকা চাঁদ—তবে যাই…

ডোরবেলে খোলামেলা কাক
পোশাক পালটে উড়ে যাক…

অলংকরণ হিম ঋতব্রত