।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাতেই বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেখানে আসামি করা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে। এজাহারে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারের বিস্তারিত পড়ুন: দুবছর আগে আরেক বাসায় থাকতেন দুজন, জেনে যান আনভীরের মা

মোসারাত জাহানের বাড়ি কুমিল্লা শহরের মোনোহরপুরে। রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। মেয়েটির পরিবার কুমিল্লায় থাকে। ঢাকার গুলশানের ১২০ রোড়ের ১৯ নম্বর বাসার বি-৩ ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। সেখান থেকেই সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: বসুন্ধরা এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

গুলশান থানায় নিহত মোসারাত জাহানের বড় বোন নুসরাত জাহান জানান, তার বোন আগের দিন ফোন দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিপদে আছেন। এজাহারে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বরে সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে নিহত তরুণীর বড় বোন দরজা বন্ধ পান। ধাক্কাধাক্কি করলেও দরজা খুলছিলেন না ওই তরুণী। এর কিছুক্ষণ আগে থেকে তার ফোনও বন্ধ ছিল। এরপর মালিকের উপস্থিতিতে মিস্ত্রি দিয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: আনভীর ‘আনঅ্যাভেইলেবল’, জানালো বিবিসি

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান তরুণীর মরদেহ উদ্ধার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: দেশ ছাড়েননি আনভীর, বলছে পুলিশ

মামলার বরাত দিয়ে গুলশান জোনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মেয়েটির সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সম্পর্ক দুই বছরের। আনভীর এক বছর মেয়েটিকে বনানীর ফ্লাটে রাখেন। পরে আনভীরের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে তিনি কুমিল্লায় চলে যান। তবে মার্চ মাসে ঢাকায় এসে গুলশানের ওই ফ্লাটে থাকা শুরু করেন।’

প্রসঙ্গত, আনভীর দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও আফরোজা বেগম দম্পতির পুত্র।