সাজ্জাদ বকুল

।। সাজ্জাদ বকুল ।।

করোনাভাইরাসের মহামারির কবল থেকে এখনো মুক্ত হয় নি পৃথিবী। বরং এখন দেশে দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। বাংলাদেশও দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। প্রথম ঢেউয়ের সময়ই দেশে স্কুলগামী শিশু এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন বাঁচাতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর থেকেই শিক্ষাঙ্গন কার্যত স্থবির। ব্যতিক্রম কিছু কওমীধারার মাদ্রাসা। তারা সরকারি নির্দেশ বা শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আমলে না নিয়ে শিক্ষাক্রম চালু রাখে। যদিও এই রোজার মাসে সরকারের কড়া নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন এসব মাদ্রাসাও এবার বন্ধ করেছে।

এভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থমকে আছে। ক্লাসরুমগুলোতে জমেছে ধুলো-ময়লার আস্তরণ। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠেছে। তাদের লেখাপড়ায় ব্যস্ত রাখতে গত বছর এপ্রিল-মে মাসের দিকেই সরকারি নির্দেশনায় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ও নানা সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস চালানো হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে সেটাও ঝিমিয়ে পড়ে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম কিছুটা সফলভাবে হলেও সরকারি স্কুলগুলো পিছিয়ে ছিল। কলেজগুলোতে অনলাইনে ক্লাস হয়েছে কি না সে খবর আমার নজরে আসে নি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম কিছু পরিমাণে চলেছে। অবশ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ছিল না। শিক্ষার্থীদের অনেকের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, অনেকের বাড়ি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক এবং অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইসের সুব্যবস্থা না থাকায় তাদের মধ্যে অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় নি। আমিও কয়েক মাস অনলাইনে ক্লাস চালানোর পর ক্রমাগতভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এক পর্যায়ে ক্লাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। এমনও হয়েছে, ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জনকেও অনলাইন ক্লাসে হাজির করানো যায় নি। এদের সবার মধ্যে যে আগ্রহ ছিল না, তা নয়। বরং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে নিয়মিত ক্লাস চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবার অনলাইনে ক্লাস তারা যে সবসময় উপভোগ করতে পেরেছে তা-ও নয়। এখানে কিছু শিক্ষকের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও কাজ করেছে। শেষে শিক্ষার্থীদের কোর্সভিত্তিক মেসেঞ্জার গ্রুপে ক্লাস লেকচারের ওয়ার্ড বা পিডিএফ ফাইল দিয়ে দেয়ারও চেষ্টা করেছি। তাতেও খুব একাট সাড়া মেলে নি। প্রসঙ্গত, আমি প্রায় ছয়-সাত বছর ধরেই শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, ক্লাস ও কোর্সের বিষয়ে নানা তথ্য প্রদান ও শিক্ষা উপকরণের সফট কপি সরবরাহের সুবিধার্থে কোর্সভিত্তিক মেসেঞ্জার গ্রুপ ব্যবহার করে আসছি। এতে অনেক সুফল পেয়েছি আমি, শিক্ষার্থীরাও পেয়েছে।

এ বছরের শুরুর দিকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে আসতে শুরু করে। সরকারও উদ্যোগী হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে। এক পর্যায়ে গত ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ ও ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়। ক্লাসরুম সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় মেরামতির জন্য সরকার অর্থও বরাদ্দ করে। এরই মাঝে দেশে হানা দেয় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। সাথে মৃতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। মার্চ মাসের শেষের দিকে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। নতুন ঘোষণায় জানানো হয়, স্কুল-কলেজ ৩০ মার্চ এর পরিবর্তে ২৩ মে খোলা হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো আগে থেকেই ২৪ মে খোলার ঘোষণা ছিল। ১৭ মে থেকে হলগুলো খোলার ঘোষণা ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা কাজ করছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-সূত্রে জানতে পারছি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যে বেশি হতাশা কাজ করছে। অনেকেই শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে, পরিবারের হাল ধরার মাধ্যমে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে এই আশা বুকে নিয়ে দিন পার করছে। কিন্তু অপেক্ষার পালা আর যেন শেষ হয় না। তাদের এই অস্থিরতা ফেসবুক পোস্ট, অন্যের পোস্টে করা মন্তব্য থেকে বোঝা যায়। এদের কেউ কেউ শিক্ষকদের দোষারোপও করতে থাকে এসব নিয়ে শিক্ষকেরা কেন উচ্চবাচ্য করছেন না।

যদিও এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কিছু করার নেই। কারণ এটি জাতীয় সমস্যা, জনস্বাস্থ্যগত বিষয়। এ বিষয়ে সার্বিক দিক বিবেচনায় সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে আমরা সরকারকে অনুরোধ করতেই পারি। সেটাও কতটুকু যৌক্তিক হবে সে প্রশ্ন তো থাকছেই। করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে দেশে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো কোনো দেশে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পরে দেখা গেছে, সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। পরে বাধ্য হয়ে তারা আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এসব দেখেশুনে আমাদের দেশেও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জোরালো করতে দেখা যায় নি। কারণ শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হলে তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? তবে দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা বিবেচনায় মনে হয়, এখন সময় এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তুলে ধরার। কেন, সেই কারণই এবার ব্যাখ্যা করছি।

সম্প্রতি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশেও তীব্র আকার ধারণ করে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে হু হু করে, পাল্লা দিয়ে বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। এপ্রিলের ১৫ তারিখের পর প্রতিদিনই করোনাতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে থাকে দেশে। ২০-২২ তারিখের মধ্যে দিনে মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক হয়ে যায়, যা এদেশে করোনায় গত এক বছরে মৃত্যুর সংখ্যায় সর্বাধিক। হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সাধারণ শয্যা, আইসিইউ শয্যার সংকট দেখা দেয়। প্রতিবেশী ভারতেও এ সময় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সব লণ্ডভণ্ড করে দিতে থাকে। গত কয়েকদিনে প্রতিদিন ভারতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে রেকর্ড হচ্ছে। প্রতিদিন সেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষের নতুন করে করোনা রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং প্রতিদিন আড়াই হাজারেরও বেশি রোগীর মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। সেখানেও হাসপাতালগুলোতে একই চিত্র।

বাংলাদেশে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে প্রথমে এক সপ্তাহ লকডাউনের ঘোষণা দেয়। পরে সেই লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু লকডাউনের মধ্যেও গার্মেন্ট কারখানাগুলো আংশিকভাবে খোলা রাখাসহ অর্থনৈতিক নানা কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টা করে সরকার। চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলে নি। এদিকে সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ সময় আরো বেশি লোকসানে পড়ে। ঈদের মৌসুমে তাই তারা ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে লকডাউন তুলে নিতে সরকারকে চাপ দেয়। ফলাফল, সরকার ২৮ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন জারি রেখেও ২৫ এপ্রিল থেকে শপিংমলগুলো খুলে দিয়েছে। ২৮ এপ্রিলের পর আর লকডাউন বাড়ানো হচ্ছে না এবং আপাতত আর লকডাউন দেওয়ার চিন্তাও সরকারের নেই বলে ইঙ্গিত মিলছে।

এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের কাছ থেকেও সরকারের ওপর চাপ আসবে এটাই স্বাভাবিক। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া আছে যে, স্কুল-কলেজগুলো ২৩ মে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২৪ মে খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু সেই ঘোষণা এসেছে ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রলয়ংকরী ঝাপটা আসার আগে। করোনাভাইরাসের এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ৩০০ গুণ বেশি শক্তিশালী বলে জানা যাচ্ছে। ভাইরাসের এই ধরনটি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে কি না তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় ভারতের পরিস্থিতি দেখে সরকার আবার ২৩-২৪ মে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা থেকে সরে আসে কি না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে, উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পোস্ট-মন্তব্যের মূল সুর এমন, যেহেতু দেশে সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, মাঝের এই দুই সপ্তাহের লকডাউনের পর আর লকডাউনে না যাওয়ার চিন্তা আছে সরকারের, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়া হোক। আর সেটা ২৩ মে থেকেই। এবার যেন আর খোলার তারিখ পেছানো না হয় এমন মতামতই তারা ব্যক্ত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমিও তাদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করি। আমি যতটুকু জানি সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটা এমন ছিল যে, স্কুল-কলেজে সকল শিক্ষকের করোনার টিকা প্রদানের পর মার্চে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হবে। আর মে মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকা দিয়ে ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেও চুক্তিমতো টিকা পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকলকে টিকা প্রদানের পর খুলে দেওয়ার চিন্তা কার্যকর করা এখন খুব কঠিন। কারণ অন্য দেশ থেকে নতুন করে চুক্তি বা উৎপাদন করে টিকা এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকলকে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করতে গেলে আরো ছয়-সাত মাস যে লেগে যেতে পারে তাতে আর সন্দেহ কী? সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা টানা প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হবে।

যেহেতু দেশের আর সকল কর্মকাণ্ড বহাল আছে, যেহেতু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও সেই উদ্বেগাক্রান্ত হয়ে দেশের মানুষের বড় একটা অংশকে কাজ থেকে বিরত রাখার বাস্তবতা নেই, সেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখি না। নানা গবেষণায় এটা প্রায় প্রমাণিত যে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শিগগির কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং এর সাথে খাপ খাইয়ে চলার অভ্যেসই আমাদের করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজ নিজ সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাতে আমরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, আন্তরিকতা দেখালেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই অচলাবস্থা নিরসন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকতে পারবে? এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। তাহলে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও সেটা কিন্তু অনেক হিসাব-নিকাশ করেই করতে হবে। এক্ষেত্রে একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, সপ্তাহের প্রতিদিনি শিক্ষা কার্যক্রম চালানো—এখনই হয়তো এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আবু সাইয়ীদ বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডট কমে প্রকাশিত তাঁর একটি লেখায় এ রকম পরিস্থিতিতে গাণিতিক হিসাব মাথায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ঈদ সামনে রেখে লকডাউন তুলে নিলেও দিনের কতটা সময় দোকানপাট খোলা রাখতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে জনসমাগমের গাণিতিক হিসাবটা মাথায় রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।

আবু সাইয়ীদের সুরে সুর মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়েও গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে নিতে আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করব।

সাজ্জাদ বকুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, চলচ্চিত্রকর্মী ও ছড়াকার