।। ঘরে বাইরে ডেস্ক ।।

অঙ্কুরিত বীজের পুষ্টিগুণের কথা অনেকেই জানেন। কেউ একে বলে সুপারফুড, আবার কারও মতে এতে নাকি সাধারণ সবজির চেয়ে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন পাওয়া যায়। এসব দাবি কতোটা পরীক্ষিত তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও অঙ্কুরিত বীজে যে বাড়তি পুষ্টি ও উপকার আছে তা গবেষণা প্রমাণ হয়েছে বহুবার। আর করোনার এই সময়ে শরীরের ভেতর-বাহির ফিট রাখতে স্বাস্থ্যকর সবজি তো চোখ বুজেই খাওয়া যায়।

কোনটা খাবেন, কেন খাবেন?

অঙ্কুরিত বীজ বলতে সেইসব বীজকেই বোঝায় যা সচরাসচর কাঁচা সালাদ বানিয়ে খাওয়া যায়। যেমন অঙ্কুরিত ছোলার বীজ বা নানা ধরনের বীজ থেকে গজানো কচি চারা। যার আরেক নাম মাইক্রোগ্রিন। অঙ্কুরিত বীজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো অঙ্কুরিত মটরশুটি ও অঙ্কুরিত ছোলা। এছাড়াও, ছোলা, মুলা, সূর্যমুখী, বাধাকপি, অঙ্কুরিত সরিষার চারা, মেথির চারা এসবও বানিয়ে নিতে পারেন সহজে।

হজমে সহায়ক: অঙ্কুরিত বীজ ও উপরে উল্লিখিত সবজিগুলোর মাইক্রোগ্রিনে থাকে ফাইটিক অ্যাসিড। এতে আরও উপকারী কিছু এনজাইম থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে। খাবার হজম করার সময় পাকস্থলীতে যে শ্বসনপ্রক্রিয়া চলতে থাকে, সেটাও ঠিকঠাক রাখে এটি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ফাইবারও পাওয়া যায় এসবে।

রোগ প্রতিরোধ রক্ত সঞ্চালন: করোনার এ সময়টা এ দুটোই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্কুরিত বীজে থাকা কোর ভিটামিন ও খনিজ (আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম) রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালনে গতি আসে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়ায়। পাশাপাশি ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বাড়িয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়তে শরীরকে প্রস্তুত রাখতেও সাহায্য করে।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য: কিছু অঙ্কুরিত বীজে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের ক্ষতি করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে নানা ধরনের কারডিওভাস্কুলার রোগের আশঙ্কাও কমায়।

ত্বক চুলের জন্য: আপাতত এ দুটো কম জরুরি হলেও রোগ-প্রতিরোধের পাশাপাশি যদি ত্বক পরিচ্ছন্ন থাকে ও চুল পড়াও কমে মন্দ কী তাতে! আর এ দুটোর পেছনে কলকাঠি নাড়ায় অঙ্কুরিত বীজে থাকা জিংক।

অ্যান্টি-ক্যানসার: করোনার চেয়ে ক্যানসার কিন্তু আরও ভয়াবহ। অঙ্কুরিত বীজ বা মাইক্রোগ্রিন সালাদ খাওয়ার চর্চা বাড়ালে ক্যানসারেও আক্রান্ত হবেন না সহজে।

কীভাবে বানাবেন অঙ্কুরিত বীজ?

একটি কাচের জার জীবাণুমুক্ত করে তাতে ভালো করে ধুয়ে ছোলা বা মটরশুঁটি রেখে দিন। জারটির মুখে জালি করা ঢাকনা লাগিয়ে দিন। বা কিছু সময় পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে রাখুন। বীজ যেন সবসময়ই ভেজা থাকে। কয়েকদিনের মধ্যেই দেখবেন বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছ। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই এগুলো খাওয়ার উপযোগী হবে।