।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তার দল মনে করে এই করোনাকালে মানুষের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত (১৭ এপ্রিল) স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘করোনার টিকা সংগ্রহ ও আমদানিতে বেসরকারি ব্যবসায়ীকে সম্পৃক্ত করার কারণে এবং সুপরিকল্পিত কোনও কৌশল না থাকার কারণে আজ টিকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিন কোটি টিকার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকে বেসরকারি আমদানিকারকের মাধ্যমে আগাম মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, ভারত টিকা রফতানি বন্ধ করায় বাংলাদেশের মূল্য পরিশোধিত টিকার প্রাপ্তি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম ডোজ টিকা যারা নিয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ টিকা তারা পাবেন কিনা সে ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনও সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ১৮ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার কোনও পরিকল্পনাও জনগণের কাছে কখনই স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শুধু চিহ্নিত ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দিয়ে একটি মাত্র উৎস থেকে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত দুর্নীতির কারণে করা হয়েছে।

দলের অবস্থান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘এই অনির্বাচিত সরকারের সীমাহীন অবহেলা, অযোগ্যতা, ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সমায়াচিত পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর  সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা এবং সরকারের গঠন করা জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ উপেক্ষা করে লকডাউন ঘোষণায় বিলম্ব করা, লকডাউন ঘোষাণা করার পরেও কার্যকর করতে না পারা, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বেড, আইসিইউ, অক্সিজেন সরবরাহ ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা না করার কারণে সংক্রমিত রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তার মন্তব্য, ‘প্রকৃতপক্ষে সরকারের কোনও পর্যায়ে কোনও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকা এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের অবাধ দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি এখন মারাত্মকভাবে মানুষের জীবনের প্রতি হুমকি এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

গত শনিবার, বিকালে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আরও অংশগ্রহণ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।