।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশনা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অন্যদিকে গত ৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ আছে দেশের সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট যা ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের জন্য ফ্লাইট চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া সরকারের নির্দেশে ফ্লাইট বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, চার্টার্ড ফ্লাইট, কার্গো ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইট চলাচল এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে। তবে এসব ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা। রোববার (১১ এপ্রিল) রাতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

কার্গো ফ্লাইট, ত্রাণ, মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন, ট্যাকনিক্যাল ল্যান্ডিং, বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রী ও ক্রুদের ডিজইনফেকশন, স্যানিটাইজিংসহ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইটেও বড় উড়োজাহাজে ২৬০ এবং ছোট উড়োজাহাজে ১৪০ জনের বেশি যাত্রী নেয়া যাবে না। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে  করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে থাকতে হবে। বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইটের যাত্রীদের দেশে আসলে ১৪ দিন সরকারি নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টার অথবা নিজ খরচে সরকার নির্ধারিত হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য ফ্লাইট চালু রাখার দাবি

এদিকে, প্রবাসী কর্মীদের জন্য ফ্লাইট চালু রাখার দাবি জানিয়েছে ট্রাভেল এজেন্টসদের মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

আটাব সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম বলেন, প্রবাসীদের ছুটি শেষে নিজ কাজে সুষ্ঠু ভাবে ফিরে যাওয়া বা নতুন ভিসা নিয়ে কাজে যোগদান করতে তাদের যাতায়াত চলমান রাখা জরুরি। অন্যথায় তাদের চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছেও।

সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি ও আটাব সদস্য শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে বহুমুখী কর্মসূচি নিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ছুটিতে আসা প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রাপ্ত কর্মীদের সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানোর বিষয়টিও বর্তমান সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ৷ লকডাউনের সময় যাদের ফ্লাইট তারা যেতে না পারলে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বে। পরিবার, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে পৃথক আরেক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো একই দাবি জানিয়েছে। তারাও প্রবাসী কর্মীদের জন্য ফ্লাইট চালুর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।