মরিচ ফুলের মাংস

পথ চলতে এসে পথের জুড়ি মেলা
ভার হয়ে গেছে; পথের পাশেই
জবাগাছ মরিচ ফুলের মাংস ও
তোতা পাখির কলম খাতার বস্তা;
পথ কিন্তু বয়ে যায়!
অথচ পথের পাশে কাঁটাতারে বদ্ধ
মুখ, ফেনা, রক্তবমির উদ্বেগ!
হায় টাউন হলের ময়না পাখি!
সুললিত চার ছক্কার রোলেক্স
একটা মুক্ত কণ্ঠের দাম কত জানো বেটা!?
একটা পেশির উল্কিতে যে চিত্র
সেটার মুল্য কি জানিস?

পথের পাশেই ডানা ও করবি
তার পাশে নীল মুখ, প্রজাপতি
তার পরে কেউ আছে নাকি?

পথ কিন্তু যায় বয়ে
সে তো জানো লক্ষী মেয়ে?

চরিত্র

ইদানিং বড় বড় চরিত্রগুলো সামনে
দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে;
আমিও হেঁটে গিয়ে মুখোমুখি হই এবং
ভাবি আমিও চরিত্র!
এমন সময় একটি গাছ
সিকান্দার বক্সের ন্যায় হেসে দিয়ে
বলে সেও বড় চরিত্র;
নদী আর চরে জেগে থাকা কাশফুল
পুরানো ইটের ভিটা শ্যাওলা পড়া
কলের পাড় এই সব বড় বড় চরিত্র!

এই ভাবে অসংখ্য বড় চরিত্রের মাঝে
আমিও বড় চরিত্র ভাবতে ভাবতে
দেখি যে জীবন নিজে এক
বড় চরিত্র বড় পুরাণ;

জীবনকে বড় চরিত্র মেনে নিয়েছি আমি।

রক্তগাছ

রক্ত বীজ ও ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে
গমন করছি মাঘে;
বাঘের চোখে ঠাউরে দিচ্ছি
আগুন আর চাবুক সমাচার;
মাঘের ভেতরে বাঘ
সে কথা জেনে নেমেছি
লাল নদে;
তার স্রোতে ও টানে
বাজি রেখেছি জানের কবচ;

গমন করেছি মাঘে
সে মাঘ পূর্ণিমা শ্যাওলা পড়া জোছনা
ছাতিম তারার চৌকাঠ ও পুষ্প পুরাণ;
আমি সেই পুষ্প ঘেরা পুরাণ কথায়
আগুন বিদ্যা পাথরে ঘর্ষণ
আর সচল রাখার চাকার দিকে
দু হাত শক্ত করে ধরে আছি
জীবন প্রিয় অচিন এক রক্তগাছ।

অলংকরণ হিম ঋতব্রত