।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হওয়ার পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। এরপর একবছর কেটে গেছে। দীর্ঘসময় সাধারণ ছুটি, স্কুল কলেজ বন্ধ, নানা ঋতুতে জেলাভিত্তিক বই মেলাগুলো না হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশনা শিল্প ধুঁকে ধুঁকে চলছিল। ২০২১ এর বইমেলায় প্রকাশকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সেই স্বপ্নে ছেদ পড়ে।

প্রথমে মেলা হবে কি হবে না শঙ্কা, এরপরে মেলা হলো। কিন্তু মেলা শুরু হলো মার্চের শেষে। আর শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলো তীব্রগতিতে। ফলে প্রকাশকরা রোজই শঙ্কায় ছিলেন, আজই হয়তো মেলার শেষ দিন।

এসব করতে করতেই সোমবার (১২ এপ্রিল) নির্ধারিত দিনের দুদিন আগেই পর্দা নামলো ঐতিহ্য রক্ষার এই মেলার। কিন্তু এ যেন অন্য চেহারার মেলা ভাঙা। টানা একমাস পরে যখনই মেলা ভাঙে তখনই লেখক প্রকাশকদের মধ্যে কষ্ট যেমন থাকে তেমনি সারা মাসের অর্জনের আনন্দও থাকে। মেলা যেন শেষ হয়েও হয় না। কিন্তু এবার শেষের সময়ে মেলায় কেবলই হতাশা আর বেদনার সুর। সারা মাসে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের খরচও উঠে আসেনি।

প্রকাশকরা বলছেন, একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নিলেও সেটি একেবারে ব্যর্থ হয়েছে। হঠকারী সিদ্ধান্ত আর লেখক প্রকাশকদের সঙ্গে নীতি নির্ধারকদের দূরত্বের কারণে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। কেউ কেউ বলছেন, আগামী বছর মেলায় অংশ নেয়ার সামর্থ্য থাকবে কিনা সে নিয়েও তারা শঙ্কিত।

বইমেলার শেষ দিন ১২ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। প্রকাশকদের অনুৎপাদনশীল বিনিয়োগের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ ৪১৩ টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হয়।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও ভাষাচিত্রের প্রকাশক খন্দকার সোহেল বলেন, এটা প্রহসনের বইমেলা। আমরা যারা অংশগ্রহণ করলাম তারা পুরোপুরি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছি। অনেক প্রকাশনা আছে যারা আগামীতে বইমেলায় আসতে পারবে না কিংবা প্রকাশনা জগতেই থাকতে পারবে না। এই বিপর্যয় কাটাতে সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্যোগ নেয়া জরুরি। প্রকাশনাগুলো থেকে সরকার বই কিনে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

এদিকে ২০২১ সালে অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। প্রকাশনা সংস্থাগুলো হচ্ছে সংবেদ, উড়কি ও কথাপ্রকাশ।