।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

এবারের লকডাউন কঠোরভাবে মানানো না গেলে সামনে ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা গত বছরের পিকের সময় অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ের চেয়েও ভয়াবহ। এভাবে চললে আগামী কয়েক দিনে করোনা সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটবে দেশে।

পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এলাকাজুড়ে বড় পরিসরে গুচ্ছ সংক্রমণ এবার বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে বলছেন তারা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাতে এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাট্রিবিউন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনও এক জায়গায় কনসেনট্রেটেড এপিডেমিক (গুচ্ছ মহামারি) হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের লক্ষণ সেটাই বলে। তবে সারাদেশেই সংক্রমণ বাড়ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, সংক্রমণের বিস্ফোরণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এটা আগামী মে-জুন পর্যন্ত যাবে বলেও জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘লকডাউনকে এবার লকডাউন হিসেবেই মানতে হবে। আগের সাধারণ ছুটির মতো দেখলে হবে না। চার থেকে পাঁচটি শহরে কারফিউ দেওয়া দরকার। যদি সব যানবাহন বন্ধ করা হয় এবং মাস্ক না পরলে শাস্তির বিধান রাখা হয় তবে কিছুটা রেহাই হতে পারি আমরা।’

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এতো প্রচার করেও মাস্ক পরার অভ্যাস করানো গেলো না যখন, তখন কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।’ যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও ১০ বছরের শাস্তির বিধান করতে হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কঠিন সাজা না দিলে কাউকে অভ্যস্ত করা যাবে না।’

ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে সারা দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করতে হবে। ব্লকেড দিতে হবে। প্রয়োজনে কারফিউ দিতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ৩১টি জেলা হলো-মৌলভীবাজার, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, নরসিংদী, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, নড়াইল, নীলফামারী, গাজীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, যশোর, মাদারীপুর, নওগাঁ, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, নাটোর, টাঙ্গাইল ও কক্সবাজার।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, ২১ মার্চ-২৭ মার্চ শনাক্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১০০ জন। ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল শনাক্ত ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শনাক্ত ছয় লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জন।

অধিদফতর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শনাক্ত হন ২১ হাজার ৬২৯ জন। ফেব্রুয়ারিতে ১৭ হাজার ১৮০ এবং মার্চে ৬৫ হাজার ৭৯ জন। অর্থাৎ জানুয়ারির চেয়ে মার্চে রোগী বেড়েছে তিন গুণ!

অধিদফতর জানায়, গতবছরের মার্চে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ৫১ জন। এপ্রিলে শনাক্ত হয় সাত হাজার ৬১৬ জন। পর্যায়ক্রমে মে মাসে ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন, জুনে ৯৮ হাজার ৩৩০ জন, জুলাইয়ে ৯২ হাজার ১৭৮ জন, আগস্টে ৭৫ হাজার ৩৩৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৫০ হাজার ৪৮৩ জন, অক্টোবরে ৪৪ হাজার ২০৫ জন, নভেম্বরে ৫৭ হাজার ২৪৮ জন এবং ডিসেম্বরে শনাক্ত হয় ৪৮ হাজার ৫৭৮ জন।