বিষণ্ন নূপুর

একটি নির্দেশক—
এরপর সরণির মোড়ে,
কে যেন বিদ্যুৎচমকে লিফলেট বিলি করে
চলে গেল,
স্তব্ধ কিছুটা সময়:
দূরে তোমাকে দেখছি
হাস্যোজ্জ্বল মুখে পড়ন্ত সূর্য,
ঢেউ-কাটা দিনের আলো
নিভে যাচ্ছে সমস্ত বিকেল

আমি কি তবে বলবো না
পুরাতন বাজারে তুমি
ভেঙে পড়া বিষণ্ন নূপুর

যার কোনও ঝংকার নেই
আছে শুধু এক ধুলোর জীবন!

শূন্য শাদা পকেট

এই সকালের শুরু
শাদা পকেটের ভেতর থেকে,
কি নেই সেখানে?
অফিসযাত্রা; সঙ্গে সামান্য
খুচরো আধুলি, আর বাজারের থলে।

একটি দুপুর আসে
ভাতঘুমে নিষণ্ন চাষী
ফলনের সম্ভাবনা দেখে;
বস্তুত অক্ষম বাসনা মুখ থুবড়ে পড়ে
বোধহীন আচানক দিবাস্বপ্নে।

বিকেল গড়িয়ে যায়
অবসন্ন মন পায় না উদ্ভাবনী শক্তি
দু-টাকার চা পানে—
নিবিড়ভাবে দেখে নেয়
মহানগরীর জীবিকাজট।

সনধে ঘিরে যে রাত নামে
সেখানে নেই কোনো উৎকীর্ণ মানুষ
এবার শাদা পকেট শূন্য;
কিছু অন্ধ হৃদয় বোবা কান্না আঁকে…

খঞ্জ পৃথিবী কাঠের ক্রাচে পথ হাঁটে

ভোলোনি সুন্দর

ভোলোনি সুন্দর। মায়া বিভ্রম আর মুগ্ধতা নিয়ে আয়নার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় গন্ধ এবং বিলাস। এখন জীবন উদযাপন করি। প্রেম-দূরবর্তী সময়ে ফুরিয়ে আসে গন্তব্য! তোমার ছায়ার থেকেও নিষ্ক্রান্ত হই। চাষ-ইন্দ্রিয়ের কথকতা বেড়ে ওঠে বাতাসে; অন্ধকার ছিঁড়ে ছিঁড়ে বিবিধ উপযোগে নেমে যাই— তুমি কী তবে জীবাশ্ম ফসিল? রঙধনুর সাতরঙে কষ্টের দানা গাঢ় হতে থাকে— সময় নিভে আসে! চেহারা দেখার দর্পণে এখন শরৎশশী! ভোলোনি সুন্দর— লিপিবদ্ধ সুখগুলো সুঁইসুতোর কারুকাজে তুলে আনে দিনযাপনের ব্যর্থতাগুলো। আমরা কী হারিয়ে গেছি? স্মৃতির গহন ছুঁয়ে ফিরে আসে মূর্খ প্রণয়! ঘরছাড়া যোগী হবে কী এবার গৃহী-মুসাফির? পুরনো ডাকগুলো অমলের কথা বলে— রোদ্দুর পিছলে যায় জীবনের ওপর। গর্ভবতী সময় জানে অস্থির এই চুম্বন— তুমি তাকে নিবিড়তা দিয়ে ডাকো। বদলে গেছে আজ মানুষের মানচিত্র— মেধা ক্রোধ দ্বেষ— সবকিছু বেঁকে যায়— মুখোমুখি সত্যের— অভিমানে কেঁপে ওঠে গার্হস্থ্যদিন;— ভোলোনি সুন্দর…

প্রচ্ছদ হিম ঋতব্রত