।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

২০১৬ সাল যেন ফিরে এলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেবারের মতোই শুক্রবার (২৬ মার্চ) কওমী-মাদ্রাসাছাত্রদের বিক্ষোভ থেকে তাণ্ডব চালানো হয় শহরজুড়ে। ভাঙচুর, আগুনে ভবন জ্বালিয়ে দেয়া, রেলওয়ে স্টেশনে আগুন দেয়া, সবশেষ থানা ঘেরাও করে পুরো শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা। এসব ঘটনায় বিকেল চারটা থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ঢাকার পত্রিকা প্রথম আলো তাদের অনলাইনে জানায়, হাটহাজারীতে সংঘর্ষের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করে। শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, স্কয়ারসংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মার্কেট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় টানানো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরও চালানো হয়।

বিকেল চারটার দিকে মাদ্রাসাছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। প্রথমে তারা স্টেশনের ট্রেনের কন্ট্রোল প্যানেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর স্টেশনের সাতটি কক্ষে আগুন ধরায়। ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় একটি টিকিট কাউন্টারে। এ সময় ছবি তুলতে গিয়ে তাণ্ডবকারীদের মারধরের শিকার হন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মাসুদ হৃদয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক মীর শাহিনও হামলার শিকার হন।

সন্ধ্যায় মাদ্রাসাছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। থানার বাইরে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা আটকে রাখে তারা।

এদিকে তাণ্ডবের পর এদিন রাতে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তাণ্ডব চালানো হয়েছিলো। সেই সময় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত সংগীত অ্যাকাডেমি ও জাদুঘরে হামলা চালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় ভবনের সবকিছু। শিল্পকলা একাডেমিতেও চড়াও হয় তারা। ভেঙে তছনছ করে দেয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কার্যালয়। লুট করা হয় কম্পিউটারসহ নানা জিনিসপত্র। হামলা হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসেও। সে বছরের অক্টোবরে একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নাসিরনগরের হিন্দুপল্লিতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কক্ষে আগুনের আলোকচিত্র প্রথম আলো অনলাইন থেকে নেয়া।