।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বেসরকারিভাবে আরো ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৩ হাজার মেট্রিক টন ভাঙা চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ পর্যন্ত ৪৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টন ভাঙা চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ মার্চ) অনুমতির এ চিঠি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মার্চ ১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টন ভাঙা চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারিভাবে আরো ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ৫৩ হাজার টন ভাঙা চাল শর্তসাপেক্ষে আমদানির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

চাল আমদানির শর্তে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে এলসি খুলতে হবে। এলসি খোলা সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে জানাতে হবে। বরাদ্দপ্রাপ্ত আমদানিকারকদের আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পুরো চাল বাজারজাত করতে হবে।

এছাড়া বরাদ্দে অতিরিক্ত আইপি (ইম্পোর্ট পারমিট) জারি বা ইস্যু করা যাবে না। আমদানি করা চাল স্বত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের নামে পুনঃপ্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা যাবে না। প্লাস্টিকের বস্তায় আমদানি করা চাল বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে না পারলে বরাদ্দ আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে বলে শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বৈধ আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। এরপর প্রথম ধাপে বিভিন্ন শর্তে বেসরকারি পর্যায়ে সর্বমোট ৩২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ২০ হাজার টনের মতো সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু বেশির ভাগ চাল এখনও বাজারে আসেনি। এর মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঋণপত্র (লেটার অব ক্রেডিট-এলসি) খুলতে পারেনি তাদের বরাদ্দপত্র বাতিল করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আর বাকিদের বরাদ্দের চাল আমদানির করে বাজারজাতের সময় বেধে দেয়া হয়েছে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এখন নতুন করে আবার আমদানির জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চালের দাম দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এ পরিস্থিতিতে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার।