।। লুৎফর রহমান রিটন ।।

আমার জীবনে চুয়াত্তরের একটি রৌদ্রকরোজ্জ্বল বিকেলের ভূমিকা অবস্মরণীয়। সেই বিকেলের গল্পটিই আমার জীবনের সবচে গৌরবের গল্প।

গেলো বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে বিশাল দেহের বঙ্গবন্ধু তাঁর মাথাটা নিচু করে আমার নাগালের মধ্যে এনে দিচ্ছেন আর আমি তাঁর মাথায় পরিয়ে দিচ্ছি ক্যাপ, কচি-কাঁচার মেলার। তিনি আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন। তাঁর বিখ্যাত তর্জনীটি আমার দিকে তাক করে কথা বলছেন হাস্যোজ্জ্বল মুখে। ছোট্ট বালক আমি একটুও ঘাবড়ে না গিয়ে খুব হাসিখুশি ভঙ্গিতে কথা বলছি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে, আই কন্ট্যাক্টে! আমাদের কথোপকথন শুনে হাসছেন রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই এবং কবি সুফিয়া কামালও। অপরূপ হাসিমুখে সুফিয়া কামাল হাততালি দিচ্ছেন আমার আর বঙ্গবন্ধুর কথাবার্তা শুনে। সব মিলিয়ে একটা অসাধারণ ফ্রেম। সেই ফ্রেমে বঙ্গবন্ধুসহ আমরা সকলেই হাস্যোজ্জ্বল।
আহা কী গৌরব-সঞ্চারি একটা দৃশ্য! আমার সারা জীবনের এক অনন্য প্রাপ্তি সেই বিকেল এবং সেই বিকেলের এই ভিডিও ফুটেজটি। (বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কুমার বিশ্বজিতের একটি গানে এই ফুটেজটি ব্যবহার করা হয়েছে। যা প্রচারিত হয়েছে চ্যানেল আইতে। গানটাও হয়েছে অসাধারণ, কথায় সুরে আর গায়কীতে।)

সাতচল্লিশ বছর আগের, ১৯৭৪ সালের এই দুষ্প্রাপ্য ভিডিও ফুটেজটির খবর প্রথম আমাকে দিয়েছিলো চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান প্রযোজক শওকত আলী। ফেব্রুয়ারির বইমেলা চলাকালীন এক বিকেলে চ্যানেল আই ভবনে আমাকে পেয়েই নোয়াখালীর আঞ্চলিক এক্সেন্টে মহাউচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিলো শওকত

–আম্‌নের লগে বঙ্গবন্ধুর স্টিল ফটোগ্রাফি আম্‌নের লেখায় বইতে দেইখছি এতোদিন। বঙ্গবন্ধু স্যালুট নিতেছেন আর ছোট্ট পিচ্চি আম্‌নে কবি সুফিয়া কামাল-দাদাভাইয়ের লগে দাঁড়াইয়া আছেন। সেই ঘটনার ভিডিও দেইখছেন্নি?
আমি বললাম, না তো! ভিডিও তো দেখিনি!

–আঁই দেইখচি! বঙ্গবন্ধুরে লই কুমার বিশ্বজিতের একটা গান এডিটিং চইলতেছিলো। আমি আম্‌নেরে চিনি ফালাই চিৎকার কইচ্ছি। হ্যার পর রিওয়াইন্ড ফরোয়ার্ড করি সবতে মিলি আমরা আম্‌নেরে দেইখচি!

আরে তাই নাকি? এই ভিডিও ফুটেজ কোত্থেকে আবিস্কৃত হলো? মনে হয় ডিএফপিতে ছিলো। সাতচল্লিশ বছর পর পাওয়া গেছে!
সাগর ভাইকে বললাম ঘটনাটা। সাগর ভাই তখনো প্রচার না হওয়া গানটা আনিয়ে তাঁর কক্ষে বসে দেখলেন। আমার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর চলমান দৃশ্যটা পর্দায় ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সাগর ভাই বললেন–অই যে রিটন!

অন্যান্যের সঙ্গে বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস আরাও ছিলেন সেখানে। তিনিও অবাক হয়ে দৃশ্যটা দেখলেন। সাগর ভাই চ্যানেল আইয়ের কর্মী আইটি বিশেষজ্ঞ সাব্বিরকে বললেন চলমান ছবি থেকে ফ্রিজ করে করে কয়েকটা স্থিরচিত্র আমাকে দেবার জন্যে। বেশ কয়েকটা অসাধারণ স্থিরচিত্র পেয়ে গেলাম আমি সাগর ভাইয়ের কল্যাণে। এই ছবিগুলো সেই স্থিরচিত্র সিরিজের।

সেই বিকেলে আমাদের নিজস্ব কিছু আনুষ্ঠানিকতাও ছিলো। আমার নেতৃত্বে মার্চপাস্ট হলো। মার্চপাস্টে ছেলেমেয়েদের স্যালুট গ্রহণ করলেন বঙ্গবন্ধু। মার্চপাস্টের শুরুতে ছোট্ট এইটুকুন আমি বিশাল দেহের বঙ্গবন্ধুর মাথায় পরিয়ে দিলাম কচি-কাঁচার মেলার ক্যাপ। খুব নিচু হয়ে মাথাটা আমার নাগালের কাছে নামিয়ে এনে বিরাট-বিশাল বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করলেন আমার মতো একজন খুদে বন্ধুর স্মারক উপহার। বঙ্গবন্ধুর মাথা এবং মাথার চুল স্পর্শ করতে হলো আমাকে, ক্যাপটা তাঁকে পরাতে গিয়ে। তাঁর শক্ত এবং ঘন কালো চুলগুলো ভীষণ ঠান্ডা ছিলো। আমাদের কাছে আসবার আগ পর্যন্ত সারাটাদিন একটানা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ছিলেন বলেই কি তাঁর সতেজ ঘন চুলগুলো এতো শীতল লাগছিলো আমার কাছে! কী জানি!

ক্যাপটা পরানোর পর বঙ্গবন্ধু হ্যান্ডশেক করলেন আমার সঙ্গে। আহা কী নরোম তাঁর হাতটা! তারপর তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত তর্জনীটি, একাত্তরের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অবিস্মরণীয় সেই আঙুলটি আমার দিকে তাক করে খুবই হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বললেন–আরে এই ছেলেটাকে তো মনে হয় চিনি আমি!

আমি আমার ছোট্ট দু’টি হাত দিয়ে তাঁর হাতটা জড়িয়ে ধরলাম–হ্যাঁ চেনেন তো! আমি রিটন। ছবি আঁকি। আমাদের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো আপনার কাছে নিয়ে এসেছিলাম তো!

বঙ্গবন্ধু বললেন–আরে তাইতো এইটাই তো সেই আর্টিস্ট ছেলেটা। খুব সুন্দর ছবি আঁকে!

হাসিমুখে দাদাভাই বললেন, আমাদের রিটন ছড়াও লেখে! ইত্তেফাকে ওর ছড়া ছাপাও হয়েছে!

শুনে বঙ্গবন্ধু একটু অবাক হবার ভঙ্গি করে বললেন–তাই নাকি? তুমি তাহলে কবি হবা বড় হয়ে! সুফিয়া কামালের মতো? জসিমউদ্দিনের মতো?

আমি না সূচক মাথা নাড়াই–না বঙ্গবন্ধু, আমি কবি হবো না।

বঙ্গবন্ধু বললেন–তাহলে তুমি হবা ছড়াকার।

এবারও রাজি হই না আমি। মাথা নেড়ে অসম্মতি জানাই। আমার কাণ্ড দেখে দাদাভাই আর খালাম্মা সুফিয়া কামাল হাসতে থাকেন। আমার কথায় মজা পেয়ে হাত তালি দিতে থাকেন সুফিয়া কামাল।

এবার বঙ্গবন্ধু বললেন, তাহলে বড় হয়ে কী হবা তুমি?

খুব স্মার্ট ভঙ্গিতে বললাম আমি,

–আর্টিস্ট হবো।

–কতো বড় আর্টিস্ট হবা?

–জয়নুল আবেদীনের মতো বড় আর্টিস্ট হবো বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু বললেন–বাহ্‌ আমাদের তাহলে দুইটা জয়নুল আবেদীন হবে!

আমাদের কথোপকথনের সময় পাশে থাকা কবি সুফিয়া কামাল আর রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই খুব হাসছিলেন। আসলে ছেলেবেলা থেকেই খুব চটপটে আর ছটফটে ছিলাম আমি। বড়দের সঙ্গে কথা বলতে একটুও ভয় পেতাম না। ভয় পাইনি বঙ্গবন্ধুকেও। আর বঙ্গবন্ধু আমার সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলছিলেন যে আমাকে তিনি অনেক আগে থেকেই চেনেন! এই প্রথম আমাদের দেখা হচ্ছে না। এর আগেও দেখা হয়েছে বহুবার, এতোটাই পরিচিত আমি তাঁর কাছে।

আমার মাথায় কাঁধে গালে আর চিবুকে আলতো করে আঙুল ছুঁয়ে আদর করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার এই অপরূপ কথোপকথন আমার একজীবনের শ্রেষ্ঠ সংলাপের স্মৃতি হয়ে থাকলো। এই সৌভাগ্যের কথা এই পরম প্রাপ্তির কথা আমি গৌরবের সঙ্গে উচ্চারণ করে যাবো নতুন প্রজন্মের কাছে। সেই বিকেলটা, সেই মুহূর্তগুলো, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁকে ছুঁয়ে দেয়া, এবং তাঁর অনন্য আশীর্বাদমাখা স্নেহস্পর্শ পাওয়ার সেই অমূল্য ঘটনাটা এখনো আমার কাছে অলৌকিক কোনো রূপকথা বলেই মনে হয়! এরকম মুহূর্ত একবারই আসে ইতিহাসে, মানবজীবনে।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার দ্বিতীয় সাক্ষাতের এই ঘটনার একটাই স্টিল ছবি পেয়েছিলাম। ছবিটা ছিলো এরকম–বঙ্গবন্ধু স্যালুট নিচ্ছেন কচি-কাঁচার মেলার ভাইবোনদের। তাঁর বাঁ পাশে কবি বেগম সুফিয়া কামাল আর দাদাভাইয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি আমি সেদিনের ছোট্ট বালক লুৎফর রহমান রিটন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার এই দ্বিতীয় সাক্ষাতের ঘটনাটা বাংলাদেশ টেলিভিশনের খবর ছাড়াও সিনেমা হলগুলোতে দেখানো হয়েছিলো তখন, ঊনিশ শ চুয়াত্তর সালে।। সে আরেক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ছিলো আমার জীবনে।

তখন, ১৯৭৪ সালে, বাংলাদেশের সিনেমাহলগুলোতে সিনেমা শুরু হবার আগে ‘চিত্রে বাংলাদেশের খবর’ নামে একটা সেগমেন্ট প্রচারিত হতো। বঙ্গবন্ধুর মাথায় আমি কচি-কাঁচার মেলার ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছি, তিনি নিচু হয়ে ঝুঁকে আমাকে সহায়তা করছেন, ক্লোজ শটে এই দৃশ্যটি ‘চিত্রে বাংলাদেশের খবরে’ বহুদিন দেখানো হয়েছিলো। গমগমে ভরাট হিরন্ময় কণ্ঠে এই খবর পাঠ করেছিলেন বিখ্যাত সংবাদ পাঠক সরকার কবির উদ্দিন। মধুমিতা সিনেমা হলের বিরাট পর্দায় সেই দৃশ্য আমাকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন অগ্রজ এটিএম মিজানুর রহমান। আহা কী মধুর সেই দৃশ্য! কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্যটা দেখার জন্যে সিনেমার দু’টি টিকিট কিনতে হয়েছিলো আমার অগ্রজকে। বাড়তি পাওনা হিশেবে সেদিন কোন সিনেমাটা দেখেছিলাম সেটা আজ মনে নেই। তবে সিনেমার বড় পর্দায় শাদাকালো ঝকঝকে চলমান ছবিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিজেকে অবলোকনের সেই স্মৃতিটা আমার মস্তিষ্কে মুদ্রিত হয়ে আছে স্থায়ীভাবে।

লেখক গবেষক শামসুজ্জামান খানের পরামর্শে আমি একটি বই লিখেছি। মুজিববর্ষেই বইটা বেরুবে। প্রথমে বইয়ের নাম দিয়েছিলাম–”আমার শৈশব আমার বঙ্গবন্ধু”। কিন্তু পুরো পাণ্ডুলিপিটা তৈরি হতে হতে বইয়ের নামটা গেছে পালটে। নামটা এখন–‘আমার শৈশব আমার যৌবন আমার বঙ্গবন্ধু’।

আমার জীবনের গতি-প্রকৃতি পালটে দিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার দেখা হবার বিস্ময়কর সেই বিকেলের বিশাল একটা ভূমিকা রয়েছে। যেটা আমি তখনই বুঝিনি, বোঝার কথাও না, কিন্তু এখন বুঝতে পারি।

ছেলেবেলায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যখন আমার দেখা হয় তখন তো আমার স্বপ্ন ছিলো চিত্রশিল্পী হওয়ার। কিন্তু নিয়তি বা প্রকৃতি চাইছিলো ভিন্ন কিছু। তিনি যখন আমার মাথায় চুলে গালে কপালে কাঁধে চিবুকে স্পর্শ করে করে আদর করে দিচ্ছিলেন তখনই আসলে ঘটে যাচ্ছে অদ্ভুত একটা শিহরণ। বিপুল একটা আলোড়ন। বঙ্গবন্ধুর মতো বিরাট বিশাল হিমালয়সম মানুষটার অলৌকিক সান্নিধ্য আমার ভেতরে কিছু একটা ওলট পালট তো ঘটিয়েই থাকবে। কিন্তু সেটা বোঝার মতো বয়েস তখন আমার ছিলো না। আমি বুঝিও নি। কিন্তু তিনি তো পরশ পাথরের মতো! তাঁর অবিনাশী স্পর্শের জাদুতে নিয়তি তখনই সিদ্ধান্তটা পাকাপাকাকি করে ফেলেছিলো যে–বড় হয়ে আমাকে হতে হবে লেখক। হতে হবে কবি। এবং আমার লেখার বিষয় হবেন এই বঙ্গবন্ধু। এবং পরবর্তী সারাটা জীবন আমাকে লিখে যেতে হবে ছড়া কিংবা কবিতা, একের পর এক, তাঁকে নিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে আমাকে লিখতে হবে বই, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। একের পর এক। একটা বই দুটো বই। সাতটা আটটা দশটা বই।

আমি যখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখি তখন একটা ঘোরের মধ্যে থাকি। কেমন একটা স্বপ্ন-বাস্তবতার মাঝামাঝি জায়গায়। যেনো আমি লিখি না। আমি লিখছি না। প্রকৃতিই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে যেনো বা!

শৈশবে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যস্মৃতি আমার মনোজগতে চিরস্থায়ী একটা ছাপ ফেলে দিয়েছিলো। তাঁর স্পর্শের সৌরভ আর সান্নিধ্যের গৌরব দীপান্বিত করেছিলো আমাকে। সেই বৈভব আমি বহন করে চলেছি আজও। আমার করোটির চিরহরিৎ অলিন্দে থাকা, হৃদয়ের গভীর গোপন কুঠুরিতে থাকা একজন মুজিব প্রায়শঃই ছন্দ হয়ে হাসেন এবং ছড়া হয়ে আসেন। প্রকৃতি এক অদ্ভুত খেলা খেলে আমার সঙ্গে। একটা ঘোরের মধ্যে ফেলে যেনো বা প্রকৃতিই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় শেখ মুজিবের ছড়া। একের পর এক। আর সেটা মুদ্রিত হয় আমার নামে, লুৎফর রহমান রিটনের নামে—”কান পেতে শোনো এই বাংলার মাটি বায়ু নদী সরোবর/জপিতেছে নাম করিয়া প্রণাম মুজিবর আহা মুজিবর…।”

কবি সুনীল গঙ্গোপধ্যায় তাঁর একটি প্রেমের কবিতায় বলেছিলেন—
”এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি?”

সুনীলের সেই কবিতার পঙ্‌ক্তির মতো আমিও বলতে পারি দ্বিধাহীন চিত্তে–
বিরাট বিশাল অভ্রভেদী বঙ্গবন্ধু
তাঁর চিরউন্নত শির তিনি একবার নামিয়ে এনেছিলেন আমার হাতের নাগালে,
অবলীলায় আমি ছুঁয়েছি তাঁর সাতই মার্চের অমর সেই তর্জনীটি।
যেই তর্জনীর ঐতিহাসিক হেলনেই নির্মিত হয়েছিলো
সাড়ে সাতকোটি বাঙালির নিজস্ব ঠিকানা।
অতঃপর অলৌকিক সেই বিকেলে
বঙ্গবন্ধুর হাত ছুঁয়েছে আমার কপোল-চিবুক,
ষ্পর্শ করেছে আমার কাঁধ,
তাঁর জাদুকরী আশীর্বাদের হাতটি তিনি রেখেছিলেন অপাপবিদ্ধ বালক আমার ছোট্ট এইটুকুন মাথায়,
বঙ্গবন্ধুর অলৌকিক স্পর্শ লাগা আমার শরীর-মন-মেধা-মনন কি কোনো পাপ করতে পারে?

লেখাটি বাংলাসাহিত্যের এই প্রখ্যাত ছড়াকারের ফেসবুক থেকে নেয়া