।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের দীর্ঘদিনের ভালো একজন বন্ধু ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালে চীন সফরের মাধ্যমে সেসময়ের চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শেখ মুজিব সুসম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৭ মার্চ) দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন শি জিনপিং।

শি জিনপিং বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান চীনের খুবই পুরনো এবং ভালো একজন বন্ধ ছিলেন। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীন সফরকালে মাও সেতুং সহ সেসময় অন্যান্য শীর্ষ চীনা নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছেন। আমরা কখনই আমাদের পূর্বসূরিদের ভুলবো না। তারা দু’দেশের মধ্যেকার সুসম্পর্কের যে ভীত তৈরি করে দিয়ে গেছেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা নতুন প্রজন্মকে বুঝিয়ে দেয়া।

৫০ বছর আগে শেখ মুজিব এ দেশের গোড়াপত্তন করেন। তিনি তার জীবন এ দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা আজও ১৬ কোটি মানুষকে উৎসাহিত করে।

নিজ বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দারুণ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হয়েছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বের কাতারে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। ৬ শতাংশের অধিক জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) মাধ্যমে বাংলাদেশ তার দেশের মানুষের জীবনকে উন্নত করছে এবং বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চীন বাংলাদেশের এমন উন্নয়নে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।

চীন ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সবসময়ই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশি রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক সিল্ক রোড বছরের পর বছর ধরে দু’দেশের সেই সুসম্পর্কের সাক্ষী হয়ে আছে। ৪৬ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কে আমরা উভয়েই উভয়ের প্রতি সর্বদা সম্মান এবং সমতার সঙ্গে আচরণ করে আসছি। আমরা একে অপরকে সমর্থন করেছি এবং উন্নয়নের পথে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি। সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চীন সঙ্গী হতে পারে। বেল্ট অ্যান্ড রোড কো-অপারেশনে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে থেকে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশও বাংলাদেশ।

প্রায় পৌনে ৬ মিনিটের ভিডিও বার্তায়, নিজ বক্তব্যে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি করোনা মহামারির মধ্যে উভয় দেশের প্রতি উভয় দেশের সাহায্য সহযোগিতার বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন। ভবিষ্যতেও উভয় দেশের মধ্যে এমন আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।