।। ডয়েচেভেলে, ঢাকা ।।

ঢাকার ৪৩৩টি হাসপাতালের মধ্যে ৪২২টি হাসপাতাল আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ৷ সংখ্যাটি মোট হাসপাতালের ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কয়েকবার নোটিশ দেয়ার পরও ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে৷

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার পর এই তথ্য প্রকাশ করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর৷ তালিকার ‘সাধারণ ঝুঁকি’ ক্যাটাগরিতে ২৪৯টি হাসপাতালের নাম আছে৷ আর ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় আছে ১৭৩টি হাসপাতাল৷

এই সব হাসপাতালকে তিন দফা নোটিশ দেয়ার পরও তারা ফায়ার ব্যবস্থাপনার কোনো উন্নয়ন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে আছে ত্রুটিপূর্ণ বা অকার্যকর অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, ফায়ার ফাইটিং টিম এবং ফায়ার অ্যালার্ম না থাকা ইত্যাদি৷

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন জানান, ‘‘আমরা সরকারি, বেসরকারি সবগুলো হাসপাতাল সার্ভে করেছি৷ শুধু সার্ভে নয়, আমরা ঝুঁকি নিরূপণ করে সুপারিশও করেছি৷ কোনো হাসপাতালে ফায়ার সিস্টেম সঠিক করতে হলে কী করতে হবে তাও আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি৷ হাসপাতালগুলো খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে৷ আগুন লাগলে বের হওয়ার মতো কোনো জায়গা বা সিঁড়িও নেই অধিকাংশ হাসপাতালে৷ সরকারি হাসপাতালে স্পেস থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালে নেই৷ আবার সরকারি হাসপাতালে বাস্তবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা বলে কিছুই নেই৷ দু-একটি ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার ঝুলিয়ে রেখেছে৷ ফায়ার টিম নেই, কোনো প্রশিক্ষণ নেই৷ কোনো ফায়ার ড্রিল হয় না৷” 

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দুইবার এই সার্ভে করেছি৷ শুধু হাসপাতালগুলোকে নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও তালিকা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি৷ কিন্তু কোনো কাজ হয়নি৷”

ফায়ার সার্ভিস এই সার্ভে করেছে ঢাকা জেলায়৷ এতে ঢাকা মহানগর ও আশপাশ এলাকার সরকারি, বেসকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, নিরাময় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

তালিকায় ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ হাসপাতালের মধ্যে আছে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার ইন্সটিটিউট হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ইএনটি, মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টার, হাইটেক মর্ডান সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, এস.পি.আর.সি অ্যান্ড নিউরোলজি হাসপাতাল, ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতাল, ব্রেইন এন্ড লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিপিএইচডি জেনারেল হাসপাতাল, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, গুলশানের প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক, প্রমিসেস মেডিকেল লিমিটেড, গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিক, আর এ হাসপাতাল ও বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল৷

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার মধ্যে আছে: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, মাতৃসদন হাসপাতাল, আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, মনোয়ারা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ, ল্যাবএইড হাসপাতাল, পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেরিস্টোপ বাংলাদেশ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, হলি ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক কমপ্লেক্স, সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতাল, ধানমন্ডি কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট, বিএসওএইচ হাসপাতাল, প্যানোরমা হসপিটাল লিমিটেড ও ধানমন্ডি মেডি এইড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড৷