।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

অস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনার টিকা দেওয়া স্থগিত না রাখতে আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন এক সময় এই আহ্বান এসেছে, যখন এ টিকা দেওয়া স্থগিত রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বড় সদস্য দেশ।

সংস্থাটি জানায়, করোনার টিকার সঙ্গে রক্তজমাট বাঁধার কোনো সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি এমন খবর দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় বসেছে। ইউরোপীয় ঔষধ সংস্থারও একইদিন বসার কথা রয়েছে। বৃস্পতিবার এই টিকা নিয়ে তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার পর ইউরোপে রক্ত জমাট ‍বাঁধার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ইউরোপে অন্যান্য সময় রক্ত জমাট বাঁধার যত ঘটনা ঘটে টিকা গ্রহণের পরও সেই সংখ্যা তেমনই আছে, বাড়েনি। অ্যাস্ট্রাজেনাকা কর্তৃপক্ষের দাবি, এখন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশ এবং যুক্তরাজ্য মিলিয়ে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ লোক তাদের টিকা নিয়েছেন। সেখানে গত সপ্তাহে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ৪০টিরও কম।

করোনায় ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। সংক্রমিত হয়েছেন ১২ কোটির বেশি মানুষ। করোনা মহামারির অবসানে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিভিন্ন দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ব্যবহার স্থগিতের পদক্ষেপ বৈশ্বিক টিকাদানের উদ্যোগের জন্য একটা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো টিকা নেওয়ার পরে কিছু লোকের শরীরে দৈবাৎ অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এটা কেবলই দৈবক্রমে।

কিন্তু ব্যাপক সংখ্যক অসুস্থতার সঙ্গে এই টিকার ডোজ নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। লাখ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে—এমন অন্যান্য অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই এ রকম কোনো ঝুঁকি দেখা যায়নি। অস্ট্রাজেনেকা টিকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাভীতি একটি বড় বাধা। যে কারণে এই টিকার চাহিদাও কম।

রোগীভিত্তিক পরীক্ষায় অন্যান্য টিকার চেয়ে ব্রিটিশ-সুইডিস কোম্পানির টিকাটির সার্বিক কার্যকারিতার মাত্রা বেশি না। কিন্তু উপাত্ত বলছে, অক্সফোর্ড-অস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। বিশেষ করে মারাত্মক অসুস্থতার ক্ষেত্রে এটি ভালো। বিশ্বের অনেক দেশে এটিই একমাত্র টিকা হিসেবে সহজলভ্য।