।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছে নেদারল্যান্ডস। টিকা গ্রহীতাদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধাসহ সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপের এই দেশটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ স্থগিত করল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এর আগে একই সংস্থার তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইউরোপের আরেক দেশ আয়ারল্যান্ড। রোববার (১৪ মার্চ) এক টুইট বার্তায় তথ্যটি জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিফেন ডোনেলি। তিনি বলেন, এটি সরকারের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

নরওয়েতে টিকা প্রয়োগের পর বয়স্কদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুত্বর ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছে আইরিশ জাতীয় টিকাদান উপদেষ্টা কমিটি (এনআইএসি)।

আয়ারল্যান্ডের সেই ঘটনার এক পরেই টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছে নেদারল্যান্ডস। এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের সরকার জানিয়েছে, নরওয়ে ও ডেনমার্কে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহীতাদের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টির খবরে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো দ্য জঞ্জ বলেন, কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলে আমরা টিকাকে অনুমোদন দিতে পারি না। (টিকার বিষয়ে) সব কিছু ঠিক আছে, এ বিষয়ে আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে। আর তাই টিকা প্রয়োগ স্থগিত করাই এখনকার জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত।

তবে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এক পর্যালোচনায় তথ্যটি জানিয়েছে কোম্পানিটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ আমাদের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাদের সুরক্ষা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা বা অন্য কোনো ঝুঁকির মুখে তারা পড়েননি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এ ভ্যাকসিন ব্যবহারে কোনো ঝুঁকি নেই। ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সিও একই কথা বলে জানিয়েছে, এ ভ্যাকসিন ব্যবহারের ফলেই দেহে রক্ত জমাট বাঁধছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।