।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানানো দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নরওয়ে। শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা গেছে। তাদের এখন রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তের প্লেটলেটের স্বল্প সংখ্যার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নরওয়ে ছাড়াও ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও এই ভ্যাকসিন নেয়ার পর কারও কারও শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিচ্ছিন্ন খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিন দেশই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ব্যবহার স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রথম এই টিকা ব্যবহার স্থগিতের ঘোষণা দেয় নরওয়ে। ডেনমার্ক, আইসল্যান্ডের পক্ষ থেকেও একই রকমের ঘোষণা আসে। লোকজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ে কথা বলেছে নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সি। নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এজেন্সির সিনিয়র চিকিৎসক সিগার্ড হর্টেমো বলেন, এই ঘটনাগুলো ভ্যাকসিনের সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটি আমাদের জানা নেই।

রয়টার্স জানিয়েছে, নরওয়েতে এমন উপসর্গ দেখা দেয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মীর সবার বয়স ৫০ বছরের মধ্যে। সিগার্ড হর্টেমো জানিয়েছেন, ইউরোপের মেডিসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) এই তিনজনের ঘটনা নিয়ে তদন্তকাজ পরিচালনা করবে।

সম্প্রতি অস্ট্রিয়াতেও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের একটি ব্যাচ প্রয়োগ বাতিলের ঘোষণা আসে। দেশটিতে ভ্যাকসিন নেয়ার ১০ দিনের মাথায় এক নারীর মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অস্ট্রিয়ার এই ব্যাচটি ইউরোপের ১৭টি দেশে পাঠানো এবিভি৫৩০০ নামের ব্যাচের ১০ লাখ ডোজের অংশ। এস্টোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গও ওই ব্যাচটির প্রয়োগ বাতিল করেছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভ্যাকসিনর সুরক্ষার বিষয়টি গভীরভাবে গবেষণা করা হয়েছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, রোগীর সুরক্ষাকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। ওষুধ নিয়ন্ত্রকরা ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মান মেনেই ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পিয়ার রিভিউ করা তথ্যেও দেখা গেছে সাধারণভাবে শরীরের জন্য ভালো সহিষ্ণু।

যুক্তরাজ্যের মেডিসিন্স অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি বলছে, ভ্যাকসিন সমস্যা তৈরি করছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। মানুষের উচিত ভ্যাকসিন নেওয়া। সংস্থাটির ফিল ব্রায়ান বলেন, রক্তে জমাট বাঁধা স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে এবং এটি অস্বাভাবিক না। যুক্তরাজ্যজুড়ে এক কোটির বেশি মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স।