।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মিয়ানমারের শনিবারও (১৩ মার্চ) বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এদিন নতুন করে আরও চার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর আগে শুক্রবার (১২ মার্চ) রাতভর বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়। ব্রিটিশ বার্তা সস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে। নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি ও এনএলডির অধিকাংশ নেতাকে হয় কারাগারে না হয় বাড়িতে বন্দি করে রেখেছে সেনাবাহিনী। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজারের বেশি মানুষকে। জাতিসংঘের হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার মিয়ানমারজুড়ে আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। ১৯৮৮ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত শিক্ষার্থী ফোন মাও’র মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়।

এদিন মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদেরকে হটাতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। সেসময় তিনজন নিহত হয়। আহত হয় আরও অনেকে। এছাড়া পায়ায় শহরে নিহত হন আরেক বিক্ষোভকারী। এর আগে শুক্রবার রাতে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশের গুলিতে দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটকদের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার রাতে ইয়াঙ্গুনের থারকেতা জেলায় বিক্ষোভ করছিলেন তারা।

এমন একটা সময়ে বড় এই বিক্ষোভের ডাক এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের নেতারা মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা জনতাকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে, ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে দেশটির কয়েক দশকব্যাপী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মারা যান, আর ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন। দুই ঘটনাতেই হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।