।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারি সারি মাল্টা গাছ। ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। একেকটি গাছে সর্বোচ্চ ৩০০টি পর্যন্ত মাল্টা ধরে আছে। বাগানের প্রায় সব গাছের মাল্টাই পরিপক্ক হয়ে গেছে। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোর কোনও কোনোটিতে হলুদাভ ভাব এসেছে। এ এলাকায় দিন দিন মাল্টা বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ১৫০ জন বাগান মালিকের ২০০টির বেশি মাল্টা বাগান রয়েছে। উপজেলার নিতপুর, ঘাটনগর, সরাইগাছী, তেঁতুলিয়া, বড়গ্রাম, তিলনা, গাঙ্গুরিয়া এলাকায় মাল্টা বাগানের সংখ্যা বেশি।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাটির গুণাগুণ মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় আকারে বড় ও সুমিষ্ট হওয়ায় এলাকার মাল্টা ব্যাপক জনপ্রিয়। আমের পর নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পোরশা উপজেলা সদরের মাল্টা বাগানের মালিক ওবায়দুল্লাহ শাহ বলেন, ২০১৬ সালে উপজেলায় তিনিই প্রথম মাল্টা চাষ ২০১৬ সালে শুরু করেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে বারি মাল্টা-১ জাতের ৬০টি মাল্টা গাছের চারা দিয়ে লাগানোর প্রস্তাব দেন। ওই চারা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা একই জাতের আরও দেড় হাজার মাল্টা গাছের চারা লাগিয়ে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে নিজের ৭ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন মাল্টার বাগান। এক বছরের মাথায় তার গাছগুলোতে ১০-১২টি করে ফল ধরে। পরের বছর গাছগুলোতে আরও ফল ধরে। এ বছর একেকটি গাছ থেকেই দেড় থেকে দুই মণ মাল্টা সংগ্রহ হবে। চলতি বছর আরও ছয় বিঘা জমিতে নতুন করে মাল্টা বাগান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই বছরের মাল্টা পরিপক্ক হওয়ার আগেই ফেলে দেই। ২০১৮ সাল থেকে বাগানের মাল্টা বিক্রি শুরু করেন। ওই বছর আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। গত বছর মাল্টা বিক্রি হয়েছে ৬ লাখ টাকার।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, মাল্টা চাষকে জনপ্রিয় করা গেলে একদিকে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন অন্যদিকে পুষ্টিকর এ ফল আমদানি নির্ভরতা কমবে। এই এলাকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। পাঁচ বছর আগেও মাত্র একটি বাগান ছিল। এখন উপজেলায় প্রায় ২০০টি মাল্টা বাগান। এখানকার উৎপাদিত মাল্টা বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার সৃষ্টি হয়েছে।