বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

বিভাগীয় জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর বিতর্কিত বক্তব্যের ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতি চেয়েছেন।

মামলার আর্জিতে মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে আসামী করা হয়েছে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে।

আর্জিতে বাদির দাবি, “আসামীগণ পরস্পর যােগসাজসে ও সহযােগিতায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিভাগীয় সমাবেশ আয়ােজনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য ঘােষণা ও হুমকি প্রদর্শন করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছে। আসামীরা সমাবেশের বক্তব্য ও কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপদজনক ও হুমকীস্বরূপ অপরাধ করেছেন।” এই যুক্তিতে চার বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করার আবেদন জানান বাদি।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন জমা দেয়ার সময় বাদির সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক লিমনসহ একাধিক দলীয় নেতা ও আইনজীবী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জন্য তদন্তপূর্বক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে কারণে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন মিললেই নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বিএনপির ওই চার নেতার বিরুদ্ধে।”

আর্জিতে সাক্ষী করা হয়েছে নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, যুগ্ম সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু ও আসাদুজ্জামান আজাদ এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মোমিনকে।

ডাবলু সরকার বলেন, “২ মার্চ বিভাগীয় জনসভার নামে বিএনপি নেতারা যে ধরনের বক্তব্য রেখেছেন, তা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। রীতিমতো ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন। সে কারণে দলীয়ভাবে আমরা বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছি না।”

আর্জিতে বলা হয়, “গত ২ মার্চ রাজশাহী বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই সাধারণ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং প্রাণ নাশের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকী প্রদান করে। এসময় তিনি বলেন-“হাসিনা রেডি হও- আজ সন্ধ্যার সময়- কালকে সকাল তােমার নাও হতে পারে, মনে নাই পচাত্তর সাল, পচাত্তর সাল মনে নাই” (উল্লেখ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বিএনপি এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মদদে কর্ণেল ফারুখ রশিদসহ কতিপয় বিপথগামী সামরিক বাহিনীর লােক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।) উক্ত ঘােষণার পর বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি এর কতিপয় নেতা কর্মী সমাবেশে উদ্দেশ্যে মূলকভাবে ফেইসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে মঞ্চে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদুস তালুকদার দুলুসহ অন্যন্যা আসামীরা একইভাবে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ঘৃণা- বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন। বেআইনি ভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি পরিদর্শন করেন।”

প্রসঙ্গত, ২ মার্চ রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় মিজানুর রহমান মিনুর বক্তৃতাটি ব্যাপক সমালোচিত হয়। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়ে তার বক্তব্যে ‘ষড়যন্ত্র না খোঁজা’র আহ্বান জানালেও আওয়ামী লীগ তাতে সন্তুষ্ট হয়নি।