।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

আওয়ামী লীগের বেঁধে দেয়া ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাবারও ১৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বিভাগীয় জনসভায় দেয়া বক্তব্যের জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

গত ২ মার্চ রাজশাহীর জনসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, “আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। ৭৫ সাল মনে নাই?” রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এই বক্তব্যকে ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ৩ মার্চ বিক্ষোভ মিছিল করে। সেখানে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন মিনুকে। অন্যথায় মামলা করার কথা জানান।

শনিবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় সেই সময় শেষ হয়ে যায়। এরপর রোববার (৭ মার্চ) দুপুর দুটার দিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ইমেইল থেকে দলীয় প্যাড ও স্বাক্ষরবিহীন একটি মেইল পাঠানো হয় সংবাদ মাধ্যমে।

সেখানে মিজানুর রহমান মিনুর নামে বলা হয়, “ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদ, নতুন নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠনের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশে আসতে বাধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে আমার বক্তব্যের জন্য যারা ব্যথিত হয়েছেন, মর্মাহত হয়েছেন, আমি তাদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করছি।”

সেখানে আরও লেখা হয়, “গত ২ মার্চ স্থানীয় প্রশাসন যেভাবে সর্বসাধারনকে সমাবেশে আসতে বাধা প্রদান করেছে তা নজিরবিহীন। সকল যানবহনসহ এমনকি খাবার দোকান বন্ধ ছিল যা ইতিপূর্বে রাজশাহীতে ঘটেনি এবং নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি এই মহানগরীতে জন্মগ্রহন করে দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসীকে নিয়ে রাজনৈতিক নিষ্ঠার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনে সাথে পাশেসাথে পেয়েছি সুতরাং কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠী বিশেষকে উদ্দেশ করে আক্রোশমূলক বক্তব্য প্রদান করা আমার স্বভাববহির্ভূত। তাই সকলকে আমার বক্তব্যে ষড়যন্ত্র না খোঁজার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

তবে প্যাড ও সইবিহীন এই বার্তাটি আমলে নিতে চাইছে না মহানগর আওয়ামী লীগ। দলটির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘সই নেই কিছু নেই। এটা ভুয়া হতেই পারে। আর তিনি প্রকাশ্য সমাবেশে যা বলেছেন, তাতে করে তাকে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চাইতে হবে।’ তিনি জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগির বিষয়টি নিয়ে মামলা হবে।

মিনুর ওই বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ জানানো ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আগেই বলেছি, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিক। এখনও সেটাই বলছি। আমার বিবেচনায়, তিনি যা বলেছেন, তাতে ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

যদিও সই-প্যাডবিহীন বার্তাটির ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে মিজানুর রহমান মিনু জানান, সেটি তারই বার্তা। তার নির্দেশেই রাজশাহী মহানগর বিএনপির ইমেইল থেকে বার্তাটি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে উত্তরকালের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ক্ষমা না চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন- সে প্রসঙ্গে মিনু বলেন, “আমরা একসঙ্গেই এক জায়গায় থাকি। একটা বিষয় নিয়ে খামাখা ভুল বোঝাবুঝির দরকার কী?”