।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

ব্যোমকেশ-ফেলুদা-কাকাবাবু-শবর কম তো আর হলো না! এবার একেবারে হাল আমলের তরতাজা থ্রিলার সাহিত্যের চরিত্র হাজির হচ্ছে ভারতভিত্তিক অন ডিমান্ড ভিডিয়ো প্লাটফর্ম জি ফাইভে। আর সেই চরিত্র আমাদের বাংলাদেশের। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘কন্ট্রাক্ট’ অবলম্বনে একই নামের ওয়েবসিরিজটি আসবে ১৮ মার্চ থেকে। যেখানে ভয়ঙ্কর এক ভাড়াটে খুনি বাস্টার্ড আর দুর্ধর্ষ এক পুলিশ জেফরি বেগ নামবে একে অপরের সঙ্গে দ্বৈরথে। চলবে ইঁদুর-বেড়াল খেলা।

সিরিজটি দেখতে চাইলে এই লিংক থেকে ক্লিক করে আপনার মোবাইল ফোনে জি-ফাইভ অ্যাপস নামিয়ে নিতে পারেন এখনই। বাংলাদেশি মুদ্রায় সহজে সাবস্ক্রাইব করার সুযোগ থাকছে এখানে।

বাংলা থ্রিলারের পর্দাযাত্রা

বাংলাভাষায় থ্রিলার মানে এককালে প্রায় চিরায়ত হয়ে ওঠা ব্যোমকেশ-ফেলুদা-কাকাবাবু-শবর সাহিত্য সম্ভারই ছিলো সবেধন নীলমণি। অবশ্য তারও আগে কীরিটি-দস্যু বনহুররা পাঠক মাতাতেন। কিন্তু কালক্রমে কোথায় যে হারিয়েছে! মাঝখানে হুটহাট ‘ঝিন্দের বন্দী’ বা ‘চাঁদের পাহাড়’- এর মতো দুর্দান্ত কিছু রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস এসেছে বটে। কিন্তু সেগুলোও স্থায়ী কোনো চরিত্র নির্মাণ করেনি। তার ওপর এগুলোর বেশিরভাগ কাহিনিই কিশোরদের উপযোগী করে বলার প্রবণতা তো রয়েছেই।

ষাটের দশকের শেষভাগে যাত্রা শুরু করলেও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ভীষণ জনপ্রিয়তা পায় সেবা প্রকাশনীর থ্রিলারগুলো। কুয়াশা-মাসুদ রানা-তিন গোয়েন্দা কয়েকটি প্রজন্মকে মাতিয়ে রাখে। যদিও ওপার বাংলায় গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে টিভি বা সেলুলয়েডের পর্দায় যেভাবে কাজ হয়েছে, সে তুলনায় এপার বাংলা ছিলো মোটামুটি নিশ্চুপ।

বই হিসেবে পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও মাসুদ রানা নিয়ে ঢাকায় সিনেমা হয়েছে মাত্র একটিই। ১৯৭৪ সালে সোহেল রানা-কবরী অভিনীত ‘মাসুদ রানা’ এখন অবধি একমাত্র সম্বল। সেটিও আবার ‘মনের আয়নায় রাঙাবো’ গানটি না থাকলেও হয়তো এতোদিন পর্দায় দেখার ভাগ্য নাও হতে পারতো! নাটক অবশ্য হয়েছিলো একখানা! নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম প্যাকেজ নাটক হিসেবে এসেছিলো ‘প্রাচীর পেরিয়ে’। সেটি ছিলো মাসুদ রানার ‘পিশাচ দ্বীপ’ অবলম্বনে। কিন্তু নোবেল-বিপাশা অভিনীত সেই নাটক গল্পের মাসুদ রানার দুর্দান্ত গতিকে টেনে ধরে যেন কচ্ছপের পিঠের সওয়ারী ছিলো! কাজেই রানা-ভক্তদের হতাশার সীমা রইলো না আর! অবশ্য বছরটাক আগে জাজ মাল্টিমিডিয়া ঘোষণা দিয়েছিলো, তারা ভালোভাবেই মাসুদ রানাকে সিনেমার পর্দায় আনবে। তবে এখনও তা আসেনি।

মূল বইয়ের প্রচ্ছদ

শুরুর দিকের কিছু মৌলিক গল্প বাদ দিলে মাসুদ রানাও আসলে বিদেশি কাহিনির ছায়া নিয়ে বাংলায় লেখা। ফলে নিজেদের ভাষায় নিজেদের সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতি উপজীব্য করে লেখা থ্রিলারের ঘাটতি রয়েই যাচ্ছিলো। বছর সাতেক আগে হঠাৎ করেই বাজারে আসে এক নতুন উপন্যাস ‘নেমেসিস’। ব্যস, আর যায় কোথায়! পাক্কা বেস্ট সেলার। এরপর একই সিরিজের আরও দুটি বই ‘কন্ট্রাক্ট’ আর ‘নেক্সাস’ও একই ফল দেয়। অনুবাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন হয়ে ওঠেন অন্যতম শক্তিমান এক থ্রিলার লেখক। খুনি বাস্টার্ড আর পুলিশ জেফরি বেগের মধ্যে ইঁদুর-বেড়াল খেলা আর অ্যাকশন দিয়ে বাংলা মৌলিক থ্রিলারের পাঠকরা এক নতুন সিরিজে প্রবেশ করেন।

আসছে ‘কন্ট্রাক্ট’

বেগ-বাস্টার্ড সিরিজের দ্বিতীয় বই অবলম্বনে জি ফাইভ ‘কন্ট্রাক্ট’ নামের অ্যাকশন থ্রিলার ওয়েব সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা আগেই দিয়েছিলো। মঙ্গবার সিরিজটির অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ্যে এনেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বলা হয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ থেকে জি ফাইভে দেখা যাবে এই সিরিজটি।

ওয়েব সিরিজের পোস্টার

বিদেশ থেকে ফিরে পেশাদার খুনি বাস্টার্ড খুনের কন্ট্রাক্ট নেয়। বিপুল অংকের অফার দিয়ে আসে টেলিফোন কল। বাস্টার্ড নেমে পড়ে তার কাজে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝে যায়, কেমন এক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ছে সে। কোটি টাকার এক ষড়যন্ত্র, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনীতি, ব্যবসা, রাষ্ট্রের গোপন অন্ধিসন্ধি আর অপরাধের অন্ধকার জগৎ। নিজের অজান্তেই এই সবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় বাস্টার্ড। না চাইতেও জড়িয়ে যায় ঊমা। আসে পাতাললোকের কারবারী ব্ল্যাক রন্‌জু। সঙ্গে আসে মিনা। রাজনীতির আবরণে ঢাকা রুমানাও ঘাপটি মেরে থাকেন দৃশ্যপটের আড়ালে। আর আসে জেফরি বেগ- এক তুখোড় পুলিশ, মূলত হোমিসাইড ইনভেস্টিগেটর। বেগ-বাস্টার্ড দ্বৈরথ শুরু হয়। দুজনের উদ্দেশ্য দুরকম। কিন্তু গল্প যত এগোতে থাকে, বোঝা যায়, একই ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়েছে দুজনই। মোটামুটি এরকমই গল্পটা।

তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত সিরিজটিতে ‘বাস্টার্ড’ চরিত্রে থাকছেন আরেফিন শুভ। শ্যামল মাওলা হচ্ছেন ‘জেফরি বেগ’। ঢাকার ভার্সেটাইল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী পর্দায় হচ্ছেন ‘ব্ল্যাক রন্‌জু’। রোমানা হিসেবে আসছেন মিথিলা। মিনা হচ্ছেন জাকিয়া বারী মম আর ঊমা হচ্ছেন আয়েশা খান।

ছয় পর্বের এই ওয়েব সিরিজটির প্রতিটি পর্বের ব্যাপ্তি হবে প্রায় ৩০ মিনিট। পোস্টারে বলা হয়েছে, এটি হচ্ছে এ বছরের সব থেকে বড় বাংলা অ্যাকশন থ্রিলার।