।। শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ।।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রতি বিনামূল্যে সৃজনশীল বই বিতরণ করেছে ‘মোহিনী সৃজনশীল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’। বই বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একাডেমির চেয়ারম্যান, কবি ও শিশুসাহিত্যিক কাজী মোহিনী ইসলাম। 

এ সময় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিশু-কিশোর, যুবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিনামূল্যে বই বিতরণের এই ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রথম ধাপে কবি ও শিশুসাহিত্যিক কাজী মোহিনী ইসলাম সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকদের লেখা সৃজনশীল বই বিতরণ করা হয়।    

শিশু-কিশোররা বই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো বই পড়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। বিনামূল্যে সৃজনশীল বই বিতরণের এমন শুভ উদ্যোগকে স্বাগত জানান রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মার্মা ও রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈবং মার্মা।

রুমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংমং মার্মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বই শুধু শিশু-কিশোরদের জন্যই নয়, আমরা যারা অভিভাবক ও শিক্ষক আছি, আমাদেরও সাহিত্যের নানান বই পড়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা সেভাবে বই সংগ্রহ করে পড়তে পারি না। আগামীতে মোহিনীর সহযোগিতা নিয়ে আমি চেষ্টা করবো আমার স্কুলে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তুলতে।    

কাজী মোহিনী ইসলাম শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ছোটবেলায় সৃজনশীল বই পড়ার প্রতি আমার দুর্বার আকর্ষণ ছিল। তখন একটি বই হাতে পাওয়া ছিল আমার জন্য এক দুর্লভ উপহার। কিন্তু সে সময় এখানে কোনো পাঠাগার কিংবা লাইব্রেরি ছিল না। তাই ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম, বড় হয়ে আমার অঞ্চলে একটি পাঠাগার গড়ে তুলবো। যেখানে থাকবে দেশ-বিদেশের উল্লেখযোগ্য লেখকদের ভালো বইসমূহ্। আজও আমি একইভাবে সেই স্বপ্নটি দেখছি। এজন্যই শিশু-কিশোর সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বই উপহার দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এবং সবার মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে ‘মোহিনী সৃজনশীল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে অনেক কষ্ট করে বই পৌঁছে দিতে হচ্ছে। আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পর প্রত্যেক প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়মিত বই বিতরণ করবো। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, লেখক-প্রকাশক ও সাহিত্যানুরাগীদের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ‘মোহিনী সৃজনশীল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’র এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।