ওয়ার্কার্স পার্টির আলোচনাসভা

।। নিউএইজ, ঢাকা ।।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থি দলগুলোর ভূমিকা অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। কারণ বেশিরভাগ বামপন্থি রাজনৈতিক দলই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অথচ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা দলগুলো মুক্তিযুদ্ধে বাম দলগুলোর ভূমিকার অবমূল্যায়ন করেছে। সোমবার ঢাকায় বামপন্থিদের এক আলোচনাসভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।

ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সম্মেলন কক্ষে সভার আয়োজক ছিলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। উপলক্ষ্য ছিলো, জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা ঘোষণার ৫১তম বার্ষিকী।

১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানের এই ঘোষণাকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থিদের ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “বাম দলগুলি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী সমস্ত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অথচ ক্ষমতাসীন দলগুলি মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বাম দলগুলির ভূমিকা উপেক্ষা করেছে।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আলোচনায় সভাপতিত্ব করতে গিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পর শাসকরা একাত্তরের চেতনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং যার ফলে বাহাত্তরের সংবিধান সেভাবে কার্যকর হয়নি। সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে রেখে, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।” বাদশা বলেন, “দেশ এখন লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণে।”

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) -এর কেন্দ্রীয় নেতা এবং ত্রিপুরার রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাস বলেন, তাঁর দল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বাম দলগুলিকে সহায়তা করেছিল।

আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক শামসুল হুদা, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, কামরুল আহসান, বশিরুল আলম ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আবুল হোসেন।

Berger Viracare

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.