Berger Viracare

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ এক নারীর মৃত্যুর পর সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের জনসাধারণ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার হাসপাতালে ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘু, কবি-সাহিত্যিক-লেখক-চিত্র শিল্পী, পরিবহন শ্রমিকের মতো বৈচিত্র্যময় শ্রেণী-পেশার মানুষকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও ক্ষমতা ছাড়তে জান্তা সরকারকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের হটাতে গুলি চালায় পুলিশ। সেসময় মিয়া থোয়াতে থোয়াতে খাইং নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। সেদিন থেকেই তাকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুতে জোরালো হয় বিক্ষোভ। শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে নায় লিন হটেট নামে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ রয়টার্সকে বলেন, ‘তাকে (খাইং) নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিচলিত নই আমি।’

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত বিক্ষোভকারী মিয়া থতে থতে খাইংয়ের স্মরণে ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। শনিবারও সেখানে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন নাগা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা। তাদের নেতা কি জং রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা স্বৈরশাসনের অধীনে ফেডারেল রাষ্ট্র গঠন করতে পারি না। আমরা জান্তা সরকারকে মেনে নিতে পারছি না।’

বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় হুঁশিয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সম্প্রতি তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নিতে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস শুক্রবার বলেছেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে আমরা আবারও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহিংস আচরণ থেকে সরে আসতে আহ্বান জানিয়েছি। আচরণ পরিবর্তনের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমরা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।’

গত বছরের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন  করলেও কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। আটক করে সু চিসহ দলের শীর্ষ নেতাদের। সু চির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আগামী ১ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স বলছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে প্রায় ৫৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রেলওয়ে কর্মী, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁরা সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.