রুয়েট
Berger Viracare

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

সম্প্রতি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) কর্তকর্তা-কর্মচারীসহ ৭৮ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সেকশন অফিসারসহ একাধিক পদ। গেল দু’মাস ধরে বিভিন্ন পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছে সেকশন অফিসার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। অন্যান্য পদের কার্ড ছাড়া হলেও ব্যতিক্রম এই পদটির ক্ষেত্রে।

রুয়েট অফিসার্স সমিতির একাধিক সূত্র বলছে, সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ নিয়ে চাপে রয়েছে প্রশাসন। এই পদে ৬ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিপরীতে আবেদন করেছেন হাজার খানেক। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক একাধিক  ছাত্রলীগ নেতাও। আর সে কারণেই এই পদে নিয়োগের জন্য চলছে নানামুখি তদবির।

জানতে চাইলে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, “শুধু সেকশন অফিসার নয়, সব পদেই নিয়োগের জন্য চাপ রয়েছে। কিন্তু আমরা সবকিছু নিয়ম মাফিক করতে চাই। চাপ যতই থাক আমরা যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দিতে চাই।”  

নিয়োগের তদবিরের আদ্যোপান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে উত্তরকাল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সেকশন অফিসার পদে ৬ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তদবিরের চাপ সামলাতে এখন বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত পদ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তার দাবি, ৬টি পদের বিপরীতে অন্তত ১১ জনের পক্ষে জোরালো তদবির রয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। এর মধ্যে সরকারি দলের রাজনৈতিক মহলের তদবিরের সংখ্যাই সর্বাধিক। এরপরেই রয়েছে রুয়েট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও ক্যাম্পাসের পেশাজীবী সংগঠনের সুপারিশ। পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতার জন্যও চাপ।

যদিও রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এবিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগ কিছুই জানে না।” এসব পদে কেউ আবেদন করেছে কিনা সেটাও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তদবির, সুপারিশ বা চাপের কথা স্বীকার করলেও রুয়েট ভিসির দাবি, নিয়মের মধ্যে থেকেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বাইরে আমরা কিছুই করছি না। তবে মুজিব বর্ষ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে বেকার যুবকদের বেশি সংখ্যক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সেটাও আমরা বিবেচনায় রেখেছি।”

বিজ্ঞাপিত পদের বাইরে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে তদবিরের চাপ সামলানোর পরিকল্পনা চলছে কি না, জানতে চাইলে রুয়েট ভিসি দাবি করেন, যা কিছুই হবে সবই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মন্ত্রণালয় ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হবে।

সেকশন অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ব্যাপারে ভিসি বলেন, “করোনার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। আশাকরি, যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে নিয়োগ কমিটি।”

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম বলেন, “এটা অনেকটা ‘হিডেন ক্রাইম’ আমাদের দেশে, যেটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বলা যেতে পারে। নিয়োগের আগেই বিভিন্ন মহল থেকে তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। কখনও কখনও তো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও আসে।”

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা বেশি থাকলে এমন পরিস্থিতি ঘটবে না বলে মনে করেন এই ইউজিসি সদস্য। তিনি বলেন, “নিয়োগের স্বচ্ছতার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে ভিসির ওপর। তিনি চাইলেই একটা স্বচ্ছ নিয়োগ কমিটি তৈরি করতে পারেন। স্থানীয় চাপ এড়াতে বাইরের সদস্যদের দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে পারেন। আর ভিসি যদি নিজেই অপস করে ফেলেন, তাহলে সত্যিকার অর্থে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না। কারণ, এগুলো সবই হয় অত্যন্ত গোপনীতার সাথে, সেই অর্থে যার কোনো দালিলিক প্রমাণ থাকে না।”

এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অতীত রেকর্ড দেখে স্বচ্ছ ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৪ সালে রুয়েটে নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ থেকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো, যা আন্দোলন ও ভাঙচুর অবধি গড়িয়েছিলো।