।। বাংলানিউজ, ঢাকা ।।

নতুন ভোটারদের অপেক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে। নতুন প্রকল্পে অর্থছাড়ের আদেশ হওয়ায় শিগগির তাদের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেয়ার লক্ষ্যে ২০১১ সালের বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পটি হাতে নেয় সংস্থাটি। সে সময়কার ৯ কোটি ভোটারের হাতে উন্নতমানের এই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ফরাসি কোম্পানি অবারথার টেকনোলজিসকে কাজ দেয় ইসি। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্ড বুঝিয়ে দিতে না পারায় নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে কাজটি করে নিচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, অবারথার ৭ কোটি ৭৩ লাখ কার্ড সরবরাহ করতে পেরেছিল। সেই মোতাবেক আগের ১ কোটি ২৭ লাখ নাগরিকের কার্ড ঘাটতি ছিল। এই ক’বছরে ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি। সব মিলিয়ে আরো প্রায় তিন কোটির মতো কার্ড তৈরি এবং তাতে নাগরিকের তথ্য ইনপুট করে বিতরণে যেতে হবে। এজন্য আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) দ্বিতীয় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকার অনুমোদনও দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে খুব শিগগির শুরু হচ্ছে নতুনদের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ।

এ বিষয়ে আইডিইএ প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল কাদের জানান, আইডিইএ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে অনুমোদনের পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি আদেশ জারি হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

‘অবারথারের কাছ থেকে ৯ কোটি কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা ৭ কোটির কিছু বেশি কার্ড পেয়েছিলাম। আরও দুই কোটি কার্ড আমাদের হাতে নেই। ২০২৫ সালের মধ্যে নিবন্ধিত সব নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি।’

জানা যায়, বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটির মতো ভোটারের তথ্য আছে। ২০২৫ সাল নাগাদ আরো প্রায় চার কোটির মতো ভোটার যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভোটারদেরও স্মার্টকার্ড দেবে ইসি। সেই হিসেবে এ সময়ের মধ্যে আরো প্রায় ১০ কোটির মতো স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে হবে।

আইডিইএ দ্বিতীয় প্রকল্প শেষ হলে সরকারের কাছে এটি রাজস্বখাতে নেয়ার জন্যও প্রস্তাব রয়েছে ইসির।

করোনার কারণে স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও বিতরণ সীমিতকরণ করা হলেও বর্তমানে পুরোদমেই কাজ চলছে। উৎপাদনের প্রায় সিংহভাগ কার্ড জেলা পর্যায় থেকে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।