।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় চালান আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি আসবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান।

সোমবার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।

সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড দিয়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনছে। এই টিকা আনছে বাংলাদেশে সেরামের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

গত ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা আসে বাংলাদেশে; তা থেকে এক সপ্তাহে ৯ লাখ ডোজ টিকা দেয়াও হয়ে গেছে।

নাজমুল সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় চালানে ২০ থেকে ৩০ লাখ ডোজ টিকা আনা হবে।

“দ্বিতীয় চালান এই মাসেই আসবে। ২১ থেকে ২৫ তারিখের কথা বলেছিলাম। ২২ তারিখেই চলে আসবে আশা করছি। প্রত্যেক মাসে তাই হবে।”

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সেরামের পাঠানোর কথা থাকলেও এবার কম আসছে। তবে তা সঙ্কট সৃষ্টি করবে না বলে মনে করেন নাজমুল।

“এখন একটু কম আসবে। সঠিক পরিমাণটা বলতে পারছি না। তবে ২০-৩০ লাখের মতো আসবে। আমাদের ডিমান্ডের উপর নির্ভর করবে। আমাদের কাছে অলরেডি ৬৫ লাখ আছে। টিকা নিয়ে ক্রাইসিস হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।”

প্রথম চালানে ৫০ লাখের পাশাপাশি ভারত সরকারের উপহার হিসেবেও ২০ লাখ ডোজ কোভিশিল্প বাংলাদেশে এসেছে।

৭০ লাখ ডোজ টিকা থেকে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

কোভিড-১৯ টিকার দুটি ডোজ নিতে হচ্ছে প্রত্যেককে। সরকার এই টিকা বিনামূল্যে দিচ্ছে।

নাজমুল বলেন, “ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে যেখানে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ টিকা দিতে পারছে।

“আমি যে টিকা দিতে পারছি, এতে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। উনার দূরদর্শিতা ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না।”

সরকারের জন্য আনার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও সেরাম থেকে টিকা আনার কথা রয়েছে বেক্সিমকোর।

সে বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, সরকারিভাবেই যেহেতু পর্যাপ্ত টিকা আসছে, তাই এখনই বেসরকারিভাবে টিকা আনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

সেরাম থেকে কেনার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও সোয়া কোটি ডোজ টিকা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সে টিকা জুন নাগাদ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।