।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ২৯ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) এবং ২৬টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। তবে মাদারীপুর জেলার কালকিনি ও নাটোর পৌরসভার ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিগত তিন ধাপের পৌরসভা নির্বাচন সংঘাত-সহিংসতা হওয়ায় এ ধাপের ভোট নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে সব নির্বাচনি এলাকায়। অনেক প্রার্থী কেন্দ্র দখলের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ভোটার, এজেন্ট ও প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। করোনাকালে এ নির্বাচনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। ভোট দেওয়ার আগে-পরে কেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও বিদ্রোহী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অনেক সময় সংঘাতের ঘটনা দেখা দিয়েছে। তিন ধাপে ভোটে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা-গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে, চতুর্থ ধাপে গোলযোগ ছাড়াই ‘সুষ্ঠু ভোট’ হবে বলে আশাবাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রাখি। আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। এজন্য যা যা করতে হবে, সে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা দরকার আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি বলেন, ৩৪ জেলার ৫৫ পৌরসভায় চতুর্থ ধাপে নির্বাচন হবে। সচিব বলেন, অনিয়ম রোধে প্রতিকেন্দ্রে তিন-চার জন অস্ত্রধারী পুলিশ থাকবে। অঙ্গীভুক্ত আনসারসহ সব মিলিয়ে প্রতি কেন্দ্রে ১১ থেকে ১৩ জন সদস্য থাকবেন। এর বাহিরে আমাদের প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে র্যাবের টিম থাকবে, পুলিশের টিম থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে ২৭টি স্থানে বিজিবি ও র‌্যাব বাড়ানো হয়েছে।

চতুর্থ ধাপের এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের টিম, প্রত্যেক পৌরসভায় গড়ে দুই প্লাটুন বিজিবি ও উপকূলীয় এলাকায় প্রতি পৌরসভায় এক প্লাটুন কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকছেন। এছাড়া কিছু পৌরসভায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্দিষ্ট হারের চেয়ে অতিরিক্ত র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

যে ৫৫ পৌরসভায় ভোট: ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও (ইভিএম) ও রানীশংকইল, রাজশাহীর নওহাটা, গোদাগাড়ী (ইভিএম), তানোর ও তাহেরপুর, লালমনিরহাটের লালমনিরহাট (ইভিএম) ও পাটগ্রাম, নরসিংদীর নরসিংদী, মাধবদী (ইভিএম), রাজবাড়ীর রাজবাড়ী (ইভিএম) ও গোয়ালন্দ, বরিশালের মুলাদী (ইভিএম), বানারীপাড়া, শেরপুরের শেরপুর (ইভিএম), শ্রীবরদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ (ইভিএম), নাটোরের বড়াইগ্রাম, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, বান্দরবানের বান্দরবান (ইভিএম), বাগেরহাটের বাগেরহাট (ইভিএম), সাতক্ষীরার সাতক্ষীরা (ইভিএম), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট (ইভিএম), কুমিল্লার হোমনা (ইভিএম), দাউদকান্দি (ইভিএম), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, পটিয়া (ইভিএম), চন্দনাইশ, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর (ইভিএম), হোসেনপুর, করিমগঞ্জ, টাঙ্গাইলের গোপালপুর (ইভিএম) ও কালিহাতী, পটুয়াখালীর কলাপাড়া (ইভিএম), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, আলমডাঙ্গা (ইভিএম), চাঁদপুরের কচুয়া (ইভিএম), ফরিদগঞ্জ, নেত্রকোনার নেত্রকোনা (ইভিএম), যশোরের চৌগাছা (ইভিএম), বাঘারপাড়া, রাঙ্গামাটির রাঙ্গামাটি (ইভিএম), মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম (ইভিএম), শরীয়তপুরের ডামুড্যা, জামালপুরের মেলান্দহ, ময়মনসিংহের ফুলপুর (ইভিএম), ত্রিশাল, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর (ইভিএম), কালাই, নোয়াখালীর চাটখিল (ইভিএম) সোনাইমুড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া (ইভিএম), লক্ষ্মীপুরের রামগতি (ইভিএম), ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা।