।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের অসুবিধার কথা তুলে ধরতে চান না। কিন্তু আমি জনপ্রতিনিধি বলতে জনস্বার্থের রক্ষককেই বুঝি। যিনি জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন; তিনিই জনপ্রতিনিধি। জনস্বার্থ রক্ষা করা তার প্রধান দায়িত্ব।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী নগরের শাহমখদুম কলেজে একটি ছয়তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধন শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কলেজে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

সভায় তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে কি কি দুর্বলতা আছে সেগুলো বের করতে হবে। আর আমি বারবার সংসদে সেই দুর্বলতার কথাই তুলে ধরেছি। কিন্তু অনেক জনপ্রতিনিধিই সমাজের দুর্বলতা তুলে ধরতে চান না। উন্নয়ন চাইলে দুর্বলতাও তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার সামগ্রিক জাতীয়করণ করা দরকার। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্বলতা চোখে পড়েছে। করোনার কারণে অটোপ্রমোশন দেয়া হয়েছে। আমি বারবার অটোপ্রমোশনের বিরোধীতা করেছি। অটোপ্রমোশন শিক্ষার্থীদের জন্য অভিশাপ। এই অটোপ্রমাশনের জন্য অনেক মেধাবীরাই উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

রাজশাহীর শিক্ষাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজশাহীর অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো এখন সরকারিকরণের উপযুক্ত। অথচ কিছু বছর আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা ছিল। আমি এই প্রতিষ্ঠানগুলো চেহারার পরিবর্তন করেছি। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে চকচক করছিল, কিন্তু ভেতরের পরিবেশ ভাল ছিল না। আমি সেটারও পরিবর্তন করেছি। এখন শুধু শিক্ষকদের শিক্ষার মানের দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষার মান ভাল না হলে এত সুন্দর সুন্দর ইমারত কাজে আসবে না।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহমখদুম কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর নূরল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন- কলেজের অধ্যক্ষ এসএম রেজাউল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ সাদিকুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান, তসিকুল ইসলাম রাজা, গভর্নিং বডির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রমানিক, কবি আরিফুল হক কুমার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার রায় প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রভাষক মিজানুর রহমান।