।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

এক গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় রাজশাহী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মঈন উদ্দিন আজাদকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নাটোরের মাধনগর স্টেশন থেকে তাকে ধরেন বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে যাতায়াতের সূত্রে পরিচয়। এরপর সখ্য থেকে রেলওয়েতে চাকরির প্রস্তুতির বই দেয়ার নামে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন মঈন উদ্দিন আজাদ।

এনিয়ে ১৯ জানুয়ারি বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন ওই গৃহবধূ। ওই মামলার প্রেক্ষিতে মঈন উদ্দিন আজাদকে বুধবার রাতে নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর স্টেশন থেকে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারণ চন্দ্র বর্মণ।

তিনি জানান, নগরের শিরোইল কলোনির এক গৃহবধূর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন আজাদকে (৪২) গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পাকড়াও করেছে। তিনি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার পদে কর্মরত। মামলার পর থেকে তিনি লাপাত্তা ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ নাটোরের মাধনগর স্টেশন থেকে তাকে পাকড়াও করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনে যাতায়াতের পথে স্টেশন মাস্টার আজাদের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা হত। আজাদ ওই নারীকে রেলওয়েতে একটি চাকরিও দিতে চেয়েছিলেন। এজন্য ঘুষ হিসেবে ওই নারীকে আট লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। তিনি আগাম দুই লাখ টাকাও নিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রেলের চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক বই দেয়ার নামে ১৭ জানুয়ারি ওই নারীকে বাসায় ডাকেন তিনি। ওই নারী সরল বিশ্বাসে তার বাসায় গেলে দেখেন সেখানে কেউ নেই। ফাঁকা বাসায় মঈন উদ্দিন আজাদ তাকে ধর্ষণ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ধর্ষণের পর রেল কর্মকর্তা ঘটনাটি কাউকে জানালে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকিও দেন।

এ বিষয়ে নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলার রুহুল কুদ্দুস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে স্টেশনমাস্টার মঈন উদ্দিন আজাদের অবস্থান জেনে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। রাতে নাটোর থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।