।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘যেকোনও দেশের সঙ্গেই সীমান্ত এলাকায় সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকে। এ বিষয়েও তাই ঘটেছে। আমাদের সদস্যরা সবসময় দায়িত্ব পালন করে। বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’

এরআগে, ভোরে দেশটির সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। মিয়ানমার সেনারা অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করে। রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরপর সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যুত্থানের খবর নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন টেলিভিশনে ঘোষণা করা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাং-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের চেষ্টা বা দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরির যে কোনও প্রয়াসের বিরোধী। এসব পদক্ষেপ বাতিল করা না হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নিপীড়নে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। পরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের দেন দরবার চলছে। এর মধ্যে অভ্যুত্থানের ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার সমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান প্রতিরোধেও কাজ করছে বিজিবি।