।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির পরিচিতি সভায় একথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

উপকমিটির নেতাদের দলের শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন মেনে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বাদ দিতে হবে। ফ্রি স্টাইলে কোনও কিছুই করা যাবে না।’

এক ব্যক্তি একাধিক কমিটিতে থাকতে পারবে না বলেও তিনি জানান। আগে যদি কোনও সহযোগী বা অন্য কোনও কমিটিতে নাম থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব

শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নারী অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগে তাদের দরজা চিরকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদের দেশের উন্নয়নে সব নারী বান্ধব কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান।

বিদ্রোহী উসকানিদাতা উভয়ের শাস্তি হবে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আবারও বলেন, ‘যারা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে এবং এখানেও মাঠে আছে তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অবস্থান স্পষ্ট। বিদ্রোহীদের যারা মদত অথবা উসকানি দিচ্ছে তাদেরও একই শাস্তি পেতে হবে।’

বিদ্রোহী ও উসকানিদাতাদের অবিলম্ব সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে কাদের বলেন, না হলে দল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিএনপি’নির্লজ্জ মিথ্যাচার

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিএনপি নেতারা নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে এবং নির্বাচনি আমেজ সৃষ্টি করলেই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো বিএনপির। তারা নামেমাত্র নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’

মির্জা ফখরুলের এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেখানে কেন্দ্রে তাদের এজেন্টই ছিল না সেখানে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ অবান্তর ও ভিত্তিহীন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে মির্জা ফখরুলের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত।‘

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা নির্বাচনি মাঠে যে ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তা বিএনপির আমলেও পায়নি বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে মহিলা উপকমিটির নেতারা ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।