রাজশাহীতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান

।। কনটেন্ট এডিটর, ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক ।।

আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা তিনি আগেই দিয়ে ফেলেছিলেন। তারপরেও তাকে আরেকবার দাঁড়াতে হলো ডায়াসে। একটু আগেই এই মঞ্চে কথা বলে গেছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তাদের কথার সূত্র ধরেই আবারও কিছু কথা বলতে হলো রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটিকে।

আর সেইসব আলোচনার মধ্যেই উঠে এলো বহু কাঙ্ক্ষিত এক ইস্যু- রাজশাহী থেকে কলকাতায় আকাশপথে যোগাযোগ। প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন মেয়র লিটন। আর তার ধারাবাহিকতায় সঞ্জীব ভাটি জানালেন, অন্যান্য ক্ষেত্রের তুলনায় এখান থেকে কলকাতায় ফ্লাইট চালু করার বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ। আর তাই তার আশ্বাস, ‘এ বিষয়ে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।’ সহকারী হাইকমিশনারের কথা শেষ হওয়া মাত্রই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে সমবেত অতিথিরা করতালি দিয়ে উঠলেন।

ইংরেজিতে মাত্র চারটি বাক্য। আর বাকি সবটাই বাংলায়, যদিও তার মাতৃভাষা বাংলা নয়! দুবছর হবে হবে করছে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার হিসেবে সঞ্জীব কুমার ভাটির রাজশাহী আসা। এরই মধ্যে বাংলা প্রায় সবই বুঝতে পারেন। যদিও বলতে পারেন একটু কম, ভাঙা ভাঙা। সেভাবেই স্বাগত বক্তৃতাটা দিলেন তিনি। এতে মুগ্ধতা এতোটাই ছড়ালো যে রাজশাহী পুলিশের এক বড়কর্তা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বলেই ফেললেন যে, ভাষার প্রতি এই সৌজন্য তাকে বিমোহিত করেছে। তবে শেষে যে রাজশাহীর জন্য আশা জাগানিয়া কথাগুলো সঞ্জীব ভাটি বলতে উঠলেন, তা কিন্তু ছিলো চোস্ত ইংরেজিতেই।

সকালে নিজ দেশের পতাকা তুলে, রাষ্ট্রপতির বাণী শুনিয়ে রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন তাদের প্রজাতন্ত্র দিবসের আয়োজন শুরু করে। দুপুর ও সন্ধ্যায় নগরীর একটি নামকরা রেস্তোঁরার সম্মেলন কক্ষে দুদফায় জমে ওঠে মতবিনিময় আর সাংস্কৃতিক আয়োজন।

সন্ধ্যার আয়োজনে পুরো রাজশাহী বিভাগ থেকেই অনেক নামি মানুষরা যোগ দেন। তাদের মাঝে কথা বলতে উঠে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ভারতের সংবিধান প্রণয়ন ও তার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের কাছে বিদেশি নয়। আমরা তাদের বলি, প্রতিবেশী। আর সে কারণেই প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রটা যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত।’ বাদশা ইঙ্গিত করেন, সার্থক যোগাযোগই পারে কেবলমাত্র ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পাশে অসাম্প্রদায়িক ভারতের বন্ধুতা’ নিশ্চিত করতে।

এরপর খায়রুজ্জামান লিটন বললেন, রাজশাহী থেকে ভারতের নৌরুট চালুর যে উদ্যোগ তাকে আরও কতোটা সম্প্রসারণ করা যায় সেই ভাবনা ভাবা উচিত। আর দুটি কথা তিনি বললেন। এর একটি রাজশাহীতে ভারতের নামকরা হাসপাতালের শাখা খোলার ব্যবস্থা করা আর অন্যটি হলো সেই আলোচিত রাজশাহী-কলকাতা ফ্লাইট চালু করতে উদ্যোগী হওয়া।

লিটন সঞ্জীব ভাটির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি নিজেই জানেন কতো সংখ্যক ভিসা আপনাকে রোজ দিতে হয়। এখন যদি এখান থেকে একটা ফ্লাইট থাকতো (অন্তত কলকাতা অবধি), তাহলে অনেক মানুষ উপকৃত হতো। কতো অসুস্থ্য মানুষ আছে, যারা শুধু উপায় না থাকায় বিমানে (আকাশপথে) যেতে পারেন না। রাজশাহী বিমানবন্দর আধুনিকায়নের একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে রানওয়ে সম্প্রসারণসহ আধুনিক টার্মিনাল হবে। তবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে পরের প্রকল্পে। কিন্তু তারপরেও রাজশাহী-কলকাতার যা দূরত্ব, তা বুঝে বলা যায়, সামান্য কিছু প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শিগগির আকাশপথে রাজশাহী-কলকাতা যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।

কথা বলতে উঠেই ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের’ মতো মেয়র লিটন জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার কথা এই দিনে খাপছাড়া লাগতে পারে! কিন্তু তা যে মোটেই নয়, তা বোঝা গেলো, সাউথব্লকে কাজ করে আসা সম্ভাবনাময় কূটনীতিক সঞ্জীব ভাটি যখন মঞ্চে উঠলেন ঠিক এর পরেই।

ভারতের সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব ভাটি সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার কথার সূত্র ধরে নিশ্চিত করেন যে, এই প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক অটুট থাকবে। আর মেয়র লিটনের উত্থাপিত ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, রাজশাহী-কলকাতা ফ্লাইট চালু করার বিষয়টি খুব একটা কঠিন কাজ নয় এবং কাজটি তিনি সফল করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন, ভারতের নামকরা কোনো হাসপাতালের একটি শাখা রাজশাহীতে খোলার ব্যাপারেও তারা কাজ করছেন।

আর বাকি থাকলো জলপথ! সঞ্জীব ভাটি না বললেও চলতো! তবু তিনি বললেন সেই জানা কথাই, গোদাগাড়ী থেকে ধুলিয়ান নৌপথ চালু করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।