Berger Viracare

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঘন কুয়াশার আস্তরণে ঢাকা ছিল রাজশাহীর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়েছে সবার অগোচরেই।

এক চিলতে রোদের জন্য শীতার্ত মানুষের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। প্রকৃতিতে বয়ে চলেছে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। এতে জুবুথুবু হয়ে পড়েছিলেন রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের মানুষ। 

গত শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত রাতেও সড়ক বাতির নিয়ন আলো ঢেকে গিয়েছিল ঘন কুয়াশার চাদরে। শিশির বিন্দুগুলো ঝরছিল তুষারপাতের মতোই। অনেক বছর পর শীতের এমন রূপ দেখেছে রাজশাহীর মানুষ। 

রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা পর্যন্তও বহাল ছিল প্রকৃতির এমন ঘোলাটে রূপ। দুপুর সাড়ে ১২টা বাজতেই দেখা মিলে তেজোদ্দীপ্ত সূর্যের। আপন আভায় দুপুরের সূর্য যখন পশ্চিমে হেলেছে তখনই স্বস্তি ফিরেছে শীতার্ত মানুষের শরীরে। সূর্যের কিরণে শরীর ঝাপটিয়ে পশু-পাখিরা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে আজ।

টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহে রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষ যেন কুঁকড়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আজ আপাতত শৈত্যপ্রবাহের সেই ধকল কেটেছে। কারণ রোববার সকাল ৭টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, রোববার সকাল ৭টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, গত শনিবার পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। এজন্য রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছিল। কিন্তু আজ সেই অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ থাকালে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

এর আগে গত শনিবার সকাল ৭টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে গত শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) ছিল ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ২৯ ডিসেম্বর ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যোগ করেন- এ জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক।

এদিকে শীতের তীব্রতায় রাজশাহীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে শীতার্ত মানুষ এ শীতের নিদারুণ দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।