।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনাকালের বিরতিতে লম্বা সময় থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুটো প্রতিযোগিতা দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক আঙিনা সবসময়ই অন্যরকম জায়গা। সেই চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশ দল জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে কেমন নিতে পারে, সেটাই ছিল দেখার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর তামিম ইকবালরা জানিয়ে দিলেন, করোনাকাল তাদের কিছুই কাড়তে পারেনি।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটের সহজ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আজ (শুক্রবার) দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৩৩.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তামিমরা। এতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে স্বাগতিকরা পায় পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ সুপার লিগে আরও ১০ পয়েন্ট যোগ হলো বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের পয়েন্ট হলো ২০।

সিরিজ জিততে চাই ১৪৯ রান। আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিলেন লিটন দাস। বিপরীতে দেখে-শুনে খেলছিলেন তামিম। তাই তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসা ৩০ রানের ২২-ই এসেছে লিটনের ব্যাট থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাট করা লিটন অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আকিল হোসেইনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। যাওয়ার আগে ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ২২ রান।

তার বিদায়ের পর ওয়ান ডাউনে নামা শান্তর শুরুটাও ভালো ছিল। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া এই ব্যাটসম্যান দারুণ কিছু শট খেলে দলের রান বাড়িয়ে নিয়েছেন। যদিও উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জেসন মোহাম্মদের শিকার হওয়ার আগে ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে খেলে যান ১৭ রানের ইনিংস।

এরপরই তামিমের সঙ্গে জ্বলে ওঠে সাকিবের ব্যাট। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলকে নিয়ে যান জয়ের দিকে। দারুণ ব্যাটিংয়ে করোনা বিরতি পর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম। রেমন রেইফারের বলে আউট হওয়ার আগে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮তম হাফসেঞ্চুরি। ৭৬ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় খেলেন ৫০ রানের ইনিংস।

বাকি কাজটা সেরেছেন সাকিব ও মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা সাকিব ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যাচ জেতানোর পথে খেলেছেন হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংস। ৫০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে। আর মুশফিক ২৫ বলে অপরাজিত থাকেন ৯ রানে। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন বোলার জেসন মোহাম্মদ, আকিল হোসেইন ও রেমন রেইফার প্রত্যেকে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।