।। বিবিসি বাংলা ।।

নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। গত ৫ জানুয়ারি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-য়ে ওই মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

মামলার এজাহারে স্থানীয় পাঁচজন যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

আগামী সাত দিনের মধ্যে হাতিয়া পুলিশকে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর শনিবার ঘটনাস্থলে যান হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম ফারুক। অভিযুক্ত পাঁচজনকে খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা ওই নারীকে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে আকারে ইঙ্গিতে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

ওই নারীর স্বামী বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে গত পহেলা জানুয়ারি রাতে স্থানীয় পাঁচজন যুবক জোরপূর্বক ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে সন্তানদের সামনে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তার স্বামী বাসায় ছিলেন না।

এক পর্যায়ে ওই নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তরা তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায়। পরে তিনি ও তার সন্তানদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

কোন মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তরা ওই নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরে ওই নারী বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে তিনি দ্রুত এসে তার স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে দুই দিন চিকিৎসা নেয়া শেষে গত ৫ই জানুয়ারি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য

তবে মামলার এজাহারে অভিযোগ যেভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার সাথে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গিয়েছে।

পুলিশ জানায় যে, ঘটনার দিন রাতে ওই নারী বাজার করে তার বাসায় ফিরছিলেন। এসময় স্থানীয় কয়েকজন ওই নারীর বিরুদ্ধে গুজব রটিয়ে নানাভাবে তাকে হয়রানি করেন।

এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই নারীর বাসায় ঢুকে তাকে বেঁধে পেটায় বলে জানায় পুলিশ।

এ সংক্রান্ত একটি ছবি পুলিশ হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে। ওই ছবিতে নারীকে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে এবং ছবিতে তিনি পোশাক পরিহিত ছিলেন।

এরপর ওই নারীর স্বামী তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে পুলিশ বলছে।

সেখানে চিকিৎসা শেষে ৫ই জানুয়ারি ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ওই নারী প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও কোন সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

এজাহারেও সেটা উল্লেখ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত বা তাদের পরিবারের কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আগেও নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

এর আগে নোয়াখালীতেই আরেকজন নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ধর্ষণের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

সেই গণআন্দোলনের মুখেই ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন করা হয়।

এরপরও ওই ঘটনার প্রধান আসামীর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসার ঘটনাতেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।