ছাত্র ইউনিয়নে ভাঙনের সুর

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভাঙনের সুর প্রকট হয়ে উঠেছে ছাত্র ইউনিয়নেও। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বামপন্থি ছাত্র সংগঠনটির একটি অংশ ঘোষিত কমিটিকে মেনে না নিয়ে আলাদা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ভেঙে তিন টুকরো হবার ঘটনাপ্রবাহের রেশ না ফুরোতেই সপ্তাহখানেকের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিক ভাঙন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ভাঙন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ছাত্র ইউনিয়নে এর আগে ভাঙন দেখা দেয় পাকিস্তান আমলে। সে সময়ের সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই ভাগ হয় সংগঠনটি।

প্রায় ৬ দশক পর এবারের ভাঙনের সুর ওঠে মূলত ৪০তম জাতীয় সম্মেলনে নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই। একচেটিয়া কমিটি করার অভিযোগ তুলে সংগঠনের একাংশ তলবী জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর ৪০তম জাতীয় সম্মেলনে ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি ও দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নের ৪১ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হয়।

এরপর ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩০ টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধিরা নতুন করে সম্মেলন করতে অনুষ্ঠানের পক্ষে সই করেন।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুসারে কাউন্সিলরদের এক তৃতীয়াংশ সই করলে ২১ দিনের মধ্যে নতুন করে সম্মেলনের আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জয় রায় দাবি করেন, তাদের দাবির পক্ষে গত জাতীয় সম্মেলনে অংশ নেয়া ২২৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে ১১৩ জন সই করেছেন। এই সংখ্যা গঠনতন্ত্রের ধারা ১৫ অনুযায়ী এক চতুর্থাংশের বেশি।

তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই দাবি উত্থাপনের পর ২১ দিনের মধ্যে রিকুইজিশন জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করতে সভাপতি বাধ্য। তবে সভাপতি দাবি উপেক্ষা করেছেন ও ২১ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও রিকুইজিশন জাতীয় সম্মেলন আহ্বান না করে গঠনতন্ত্রকে লঙ্ঘন করেছেন।’

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে প্রতিনিধি সভা বসে।

জয় রায়ের সই করা প্রতিনিধি সভা আহ্বানের চিঠিতে বলা হয়, ‘সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের দায়িত্ব যেখানে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও ঐক্যকে সমুন্নত রাখা, সেখানে সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের অন্য সদস্যরা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এমতবস্থায় গঠনতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা ও সংগঠনের ঐক্যের স্বার্থে রিকুজিশন জাতীয় সম্মেলন অপরিহার্য।’

বুধবার বেলা ১২ টা থেকে সন্ধ্যা অবধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে প্রতিনিধি সভা শেষে জানানো হয়, তারা নতুন নেতৃত্ব গঠনে জাতীয় সম্মেলন করবেন। তবে তারিখ জানানো হবে এক সপ্তাহ পর।

এই প্রতিনিধি সভায় ৩০টি সাংগঠনিক জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

প্রতিনিধি সভার আয়োজকদের অন্যতম একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিখা পেরেগু।

তিনি বলেন, “প্রতিনিধি সভা থেকে নতুন করে ৪১তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৫ সদস্যের ‘সম্মেলন প্রস্তুতি সমন্বয় পরিষদ’ করা হয়েছে।”

প্রতিনিধি সভা নিয়ে বিস্তারিত এখন প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না জানিয়ে মিখা পেরেগু বলেন, “আগামী এক সপ্তাহ পরে আমাদের গঠন করা ‘সম্মেলন প্রস্তুতি সমন্বয় পরিষদ’ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনের তারিখ ও অন্যান্য বিষয় জানিয়ে দেবে।”

তবে এব্যাপারে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা জানি না কে করেছে। এটার সঙ্গে সংগঠনের যদি কেউ যুক্ত থাকে তাহলে সংগঠনের ধারা গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত না করে কেউ যদি এইটা করে থাকে তাহলে সেটা ছাত্র ইউনিয়নের না। কে বা কারা এই সম্মেলনে তারিখ নির্ধারণ করল সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি অবগত না।’

অন্যদিকে দীপক শীল বলেন, ‘এসব আমরা কিছুই জানি না। ওখানে (প্রতিনিধি সভা) যারা বসেছিলেন, তারা জামাত-শিবিরের এজেন্ট কি না সেটাও দেখা দরকার।’