।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১৯তম আসর।

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’- এই স্লোগান প্রতিপাদ্য করে ৯দিনব্যাপী এই উৎসবে বাংলাদেশসহ ৭৩টি দেশের ২২৭টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১০৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১২০টি!

উৎসবের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উৎসব আয়োজকরা। এতে উপস্থিত ছিলেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল, চেয়ারপারসন কিশোয়ার কামাল, ম. হামিদ, জুরিবোর্ডের সদস্য মইনুদ্দিন খালেদ, অভিনেতা ফেরদৌসসহ উৎসব সংশ্লিষ্টরা।

আহমেদ মুজতবা জামাল জানান, ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘এবারের উৎসবেও থাকছে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগ। তবে উৎসবে এবারই প্রথম সংযুক্ত হচ্ছে ‘লিজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ট্রিবিউট’ নামে আরও দু’টি নতুন বিভাগ, যা এবারের উৎসবকে আরও উচ্চতর মাত্রা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৬ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হোসেন এমপি, বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার মি. বিক্রম কে দোরাইস্বামী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে ‘স্প্রিং ব্লোসম’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সুজান্না লিনডন। একজন টিনেজ তরুণীর সঙ্গে একজন প্রবীণের জাগতিক সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। ২০২০ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছবিটি।

উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর স্থানসমূহ- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স ও সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্স।

চলচ্চিত্র দেখার সময় নিয়মাবলী

১. জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন: সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটমূল্য ৫০ টাকা।

২. কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন: এখানে সকাল ১০টা থেকে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। যেখানে অভিভাবকরাও শিশুদের সঙ্গে এই চলচ্চিত্রগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটমূল্য ৫০ টাকা।

৩. জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন: এই মিলনায়তনের সব প্রদর্শনী সবাই বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে আগে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৪. শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা: এখানের প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৫. শিল্পকলার নন্দনমঞ্চ: এখানের প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত।