।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

বাংলদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিসিক শিল্পনগর রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মঠপুকুর সংলগ্ন মাঠে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বিসিক-ঐক্য উদ্যোক্তা মেলা-২০২১ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।

মেয়র বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে মেলা আয়োজন করেছে আমি তার জন্য বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। মেলা আয়োজন করে করোনা ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিক। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতিতেও বিসিকের ৭৬ টি শিল্পনগরে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন অব্যাহত ছিল বলে দেশে খাদ্যদ্রব্যের কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি।

মেয়র আরো বলেন, দীর্ঘদিনেও রাজশাহীতে শিল্পায়ন হয়নি। সেজন্য শিল্পায়নের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি শিল্পায়ঞ্চল অনুমোদন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বিসিক শিল্পনগরী-২ এর ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। চামড়া শিল্প পার্কও প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। নারী উদ্যোক্তাদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে তাদের আগ্রহী করে তোলা গেলে এখাতে বেশি উন্নয়ন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, শুধু শিল্পখাত নয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সকলের সহযোগিতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের শিখরে পৌছে যাবে।

ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহীন আকতার রেনী বলেন, বাংলাদেশের ৮০ লক্ষ কটেজ, মাইক্রো ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের পাশে আছি আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিয়ে, এই সেক্টরের উন্নয়নে। আমরা বিশ্বাস করি উন্নয়নের জন্য এস এম ই। সামনের বাংলাদেশ, বিশ্বজয় করা বাংলাদেশ। গ্রীন প্রোডাক্ট, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং কোটি পণ্যে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিশন ঘোষণা দিয়েছেন। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোন্নত বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছেন, বাস্তবে তিনি শিল্প বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিশন-২০১৪ লক্ষ্য অর্জনে বিসিক কর্তৃক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের জিডিপি‘তে শিল্পখাতের অবদান ৩৫ শতাংশ, এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান রয়েছে ২৫ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে এবং শিল্পের অবদান ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিসিক রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক মামুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মেলায় ৭০টি স্টলে সিল্কের শাড়ি-কাপড়, থ্রিপিচ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্ত ও কুটির শিল্পজাত বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্য সামগ্রী, প্রসাধনী, বুটিক, বাটিকসহ বিভিন্ন দেশিয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন উদ্যোক্তাগণ। মেলাতে বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তৈরি হস্ত ও কুটির শিল্পজাত পণ্য ও মধু বিক্রয় করা হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।