।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী পলিটেকনিক শাখার তৎকালীন সহ-সভাপতি শহিদ রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানির একাদশ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে রাজশাহী জেলা ও নগর ছাত্রমৈত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শহিদ সানির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। পরে সেখানে সানির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এরপর ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপির পক্ষে সানির স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্টির জেলা ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী নগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ওহিদুর রহমান। বক্তব্য দেন- ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল ও শহিদ সানির বাবা মো. নান্নু।

এসময় বক্তারা বলেন, ভর্তি বার্ণিজ্য নিয়ে সে সময যে দুর্নীতি গড়ে উঠেছিল তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ২০১০ সালের এই দিনে ছাত্রমৈত্রীর নেতা সানি খুন হয়। ছাত্রমৈত্রী বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। শহিদ সানি যে স্বপ্ন দেখেছিলো- সেই স্বপ্ন ধারণ করে ছাত্রমৈত্রী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বক্তারা শহিদ সানির হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

একইসঙ্গে ছাত্রমৈত্রীর নেতারা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মিলনায়তন শহিদ সানির নামে নামকরণ করার প্রস্তাব জানান। এসময় মিলনায়তনের দেয়ালে সানির নাম লিখে তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়ার জন্য তারা পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

রাজশাহী জেলা ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, নগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, সাবেক ছাত্রনেতা আকছারুজ্জামান সুমন, মহাইনুল রহমান রানা, চন্দ্রীমা থানার সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দীন জাহিদ, তামিম শিরাজী, সাবেক ছাত্রনেতা সম্রাট রায়হান, সাবেক ছাত্রনেতা রাফি, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অর্ণব, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ঋতু সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি জামায়াত-শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারী তৎকালীন রাজশাহী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের  সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তুষারের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে ধারালো অস্ত্রশস্ত্রসহ ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রমৈত্রীর পলিটেকনিক শাখার সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল, সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি ও শেরাফত আলী খান বুলবুল মারাত্মক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিনই সানির মৃত্যু হয়।

আহত জুয়েল ও বুলবুল দীর্ঘ চিকিৎসায়ও পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাননি। জুয়েলের ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়েছে। তার মাথা ও ঘাড়ে অজস্র আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর বুলবুল হারিয়েছেন স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি। সানি হত্যার মামলায় ২০১২ সালের ১৬ মে আদালত ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।