।। কনটেন্ট এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

ফিল্ম গুনে গুনে ছবি তোলো রে! এরপর নেগেটিভ ডেভেলপ করো রে! তারপর সেখান থেকে বেছে বেছে প্রিন্ট করতে দেয়া! এতসব ঝক্কি পেরিয়ে এরপর কাঙ্ক্ষিত ছবি হাতে এলে যত্ন করে সাজিয়ে রাখা অ্যালবামে।

সেইসব ফিল্ম ক্যামেরার যুগ সেই কবেই ফুরিয়েছে। ডিজিটাল ক্যামেরা আসার পরেও ছবি প্রিন্টের ব্যবসা ছিলো রমরমা। কিন্তু তারপর যখন মোবাইল ফোনেই ঢুকে পড়লো ক্যামেরা আর কাগজের অ্যালবামের বদলে ডিজিটাল ফটোফ্রেম হয়ে অনলাইনে সামাজিক মাধ্যম যখন ছবি শেয়ারের প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠলো, তখন থেকেই ছবি প্রিন্টের ব্যবসার মন্দা শুরু।

রাজশাহী মহানগরীতে ছবি প্রিন্টের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাহেববাজারের ফুজিল্যাব ছিলো অন্যতম। গত কয়েক মাস ধরে সেটি হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার ভেতর থেকে সব আসবাবপত্র বের করে নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই এর বন্ধ ঘোষণা জানান দেয়া হলো।

সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে অনেকেই নানা রকম পোস্ট দিয়েছেন। আরাফাত রুবেল নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন-

“রাজশাহী থেকে ব্যাবসা গুটিয়ে নিল ফুজিকালার।এক সময়ে তরুন তরুণীদের ক্রাস ফুজি ফিল্ম। আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্ট ফোনের কাছে বড়ই অসহায়! এই ফুজিকালারকে ঘিরে আমার অনেক স্মৃতি। কলেজের স্টুডেন্ট থাকাকালীন সময়ে যখন ফটোগ্রাফি করতাম, কখনও ছবি তোলা, ফিল্ম কেনা, ডেভোলাপ, ওয়াশ করা সব মিলিয়ে পুরো একটা সপ্তাহ লেগে যেতো। কতো যে সময় কাটিয়েছি এই ফুজিকালারে।আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে ফুজিকালার। তারা হয়তো কখনও জানবে না, যে একটি ছবি তুলে তার জন্য ২/৩ দিন অপেক্ষা করে লাইন ধরতে হতো। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হলো ফুজি ফিল্মকে।” এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিও তারই তোলা।

প্রসঙ্গত, নগরীর আরেক প্রতিষ্ঠান মিতা কালার ল্যাবের দুটি শাখার মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে রয়েছে গত ৪ মাস ধরে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনি জটিলতার কারণে সাহেববাজার শাখাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।