রাজশাহী আলিফ লাম মিম ভাটা

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

পরিবেশ অধিদফতরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের ভাড়া নেয়া ভবনে গভীর রাতে রহস্যময় হামলা হয়েছে। একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ভবনটির একতলা ও দোতলায় অবস্থিত পরিবেশ অধিদফতরের অফিসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। চারতলা ভবনটির মালিক যেখানে থাকেন, সেই তৃতীয় তলার জানালার কাঁচেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটলেও বিস্ময়করভাবে পুলিশের কাছে বুধবার রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। যদিও সেই গভীর রাতে উত্তরকাল পরিবেশ অধিদফতরের এক কর্মকর্তার ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয়।

প্রসঙ্গত, নগরীর সপুরার ফিরোজাবাদ এলাকায় অবস্থিত আফসান নীড় নামের ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা গেলো কয়েক বছর ধরে পরিবেশ অধিদফতর রাজশাহী জেলা কার্যালয় ভাড়া নিয়ে অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে। নিচতলায় পরিবেশ অধিদফতরের একটি মিলনায়তনও রয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর ভবনটির নিচতলার বাইরের অংশে একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বিনামূল্যে রোগী দেখেন।

ভবনটির নিরাপত্তা প্রহরী আবদুর রাজ্জাক জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ভবনের পেছন দিক থেকে হামলা ও ভাঙচুরের শব্দ পান। তিনি পেছনের অংশে গিয়ে দেখতে পান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভবনে হামলা চালিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করছিলো তারা, যা নৈশপ্রহরী স্পষ্ট শুনতে পান।

রাজ্জাক বলেন, ‘ওরা গালিগালাজ করতে করতে ভবনের প্রতিটি কাঁচের জানালা ভাঙচুর করতে থাকে। পাশে নতুন বড় রাস্তায় (আলিফলামমিম ভাটা থেকে চৌদ্দপাই সংযোগ সড়ক) পুলিশের ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিলো। বারবার চিৎকার করে ডাকলেও তারা এগিয়ে আসেনি।’

নৈশপ্রহরী জানান, ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা ‘কার সঙ্গে লেগেছিস জানিস’ বলে চিৎকার করতে করতে শালবাগানের দিকে চলে যায়। একই সঙ্গে পুলিশের ভ্যানও ‘এটা আমাদের এলাকা নয়’ বলে সেখান থেকে দ্রুত সরে যায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম রুহুল কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তরকালকে বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা আমাদের নলেজে নেই। কেউ অভিযোগও করেনি এখন পর্যন্ত।’ তবে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা তৎপর হলে ভাড়া বাসার মালিক বুধবার সকালে এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতার জের ধরে ঘটনাটি ঘটেনি।’

আইনগত কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, ‘যেহেতু বাড়ির মালিক বলেছেন, এটা তাদের ব্যাপার, সে কারণে আমরা আর থানা-পুলিশ করিনি। তবে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনাটি বিস্তারিত জানিয়ে একটি ইমেইল করেছি। কারণ ঘটনা যাই হোক একটি সরকারি অফিসে এমন হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।’