।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

পাকিস্তানের করাচির ল্যান্ডি জেলখানায় দেড় বছর বন্দি থাকার পর দেশে ফিরেছেন আট বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরই মধ্যে তারা সবাই গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বজনরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের সবার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে ওমান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্রোতের টানে পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় পাকিস্তান কোস্টগার্ড তাদের আটক করে। আটক বাংলাদেশি নাগরিক ওমানে বৈধ শ্রম ভিসা নিয়ে অবস্থান করছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এক বছর আগে তাদের মুক্তিতে বাধা নেই বলে পাকিস্তানের আদালত রায় দিলেও তাদের মুক্তি মেলেনি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় তারা বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেন।

তারা হলেন, নবীর উদ্দিন, ইউসুফ উদ্দিন, মো. শাহরাজ, আবুল কাশেম, মো. সাহেদ, মো. খান সাব, মো. শরিফ ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে গত ২৮ জুন এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, পাকিস্তানের কারাগারে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাদের খাবার পানিসহ জরুরি সেবা দেয়া হয়। ব্র্যাকের সাইকোসোসাল কাউন্সিলর এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মনোসামাজিক সেবা দেন। পরে আট জনকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। দেশে ফেরাতে তাদের জন্য আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সরকারি খরচে বিমান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের অনুমোদন দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, করাচির বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন, সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মালির কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই ৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে।

দেশে ফেরা মো. নবীর উদ্দিনের ছেলে সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমার বাবাসহ অন্য ৮ জন দেশে ফিরেছেন। বাবার মুখ দেখতে পেরে আমাদের পরিবার অনেক খুশি। খবর প্রকাশের পর আমার বাবাসহ অন্যান্য আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এসব সবাইকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’