।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

ইতালিতে বেস্ট ফিচার ফিল্ম জুরি অ্যাওয়ার্ড জিতলো অপি করিম অভিনীত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘মায়ার জঞ্জাল’। ছবিটির ইংরেজি নাম ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’।

রোমে অনুষ্ঠিত এশিয়াটিকা ফিল্ম ফেস্টিভালের ২১তম আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘এনকাউন্টার উইথ এশিয়ান সিনেমা’র অফিসিয়াল সিলেকশনের ৯টি ছবির মধ্য থেকে এ পুরস্কার জিতে নেয় ভারতের ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী পরিচালিত ছবিটি। এটি প্রযোজনা করেন বাংলাদেশের নির্মাতা জসীম আহমেদ।

উৎসবটি শুরু হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। ২৩ ডিসেম্বর পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয় এশিয়ান সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় উৎসবটি। করোনা মহামারির কারণে এ বছর অনলাইন স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয় আমন্ত্রিত ছবিগুলো।

এই প্রাপ্তি প্রসঙ্গে জসীম আহমেদ বলেন, ‘যেকোনও প্রাপ্তিই আনন্দের। ছবিটি এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন উৎসব থেকে আমাদের জন্য আনন্দ বয়ে এনেছে। তবে এবারের আনন্দটা সবচেয়ে বেশি। কারণ, এটি বিজ্ঞ বিচারকরা সেরা এশিয়ান ছবি হিসেবে নির্বাচন করেছেন।’

জসীম জানান, নতুন বছরে ছবিটি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।

এর আগে ‘মায়ার জঞ্জাল’ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, জগজা নেটপেক চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেয়। সাংহাই উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হলেও মহামারির কারণে এবারের আসরটি বাদ দেয়া হয়।

‘মায়ার জঞ্জাল’-এর মাধ্যমে ১৫ বছর পর বড় পর্দার জন্য কাজ করলেন অপি করিম। ছবিটিতে তার চরিত্রের নাম সোমা। মেয়েটি কলকাতার। সে বিবাহিতা। স্বামী আর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। তবে স্বামী বেকার। এ কারণে সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে চাকরি করে সোমা। তার স্বামী চাঁদু চরিত্রে আছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।

২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘ব্যাচেলর’ ছিল অপি করিমের প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর আর বড় পর্দায় পাওয়া যায়নি তাকে। ‘মায়ার জঞ্জাল’-এর মাধ্যমে আবারও চলচ্চিত্রে ফিরলেন তিনি।

কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোট গল্প অবলম্বনে সাজানো হয়েছে ছবিটির চিত্রনাট্য। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের নাট্যদল প্রাচ্যনাটের সোহেল রানা (সত্য), কলকাতার অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ (বিউটি), পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্র‌যুক্তি মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (গণেশ বাবু)। ছবিটির শুটিং হয়েছে ঢাকা ও কলকাতায়।

‘মায়ার জঞ্জাল’ পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। ২০১৩ সালে ‘ফড়িং’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন তিনি। এরপর টেলিভিশনের জন্য ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’ ও ‘ভালোবাসার শহর’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি পরিচালনা করেন। পাঁচ বছর পর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরলেন কলকাতার এই প্রশংসিত নির্মাতা।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন জসীম আহমেদ। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে আছে কলকাতার ফ্লিপবুক। আগামী বছরের শুরুর দিকে একই দিনে বাংলাদেশ ও ভারতে মুক্তি পাবে ‘মায়ার জঞ্জাল’।