।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে গঠিত চারটি কমিটি তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, এখন আমরা ১১১ দফা সুপারিশ ধীরে ধীরে বাস্তবায়নে যাবো।

আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী সভায় এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সে জায়গায় আমরা যাবো। এখন আমাদের কাজ হলো যারা এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে তাদের সুপারিশ করবো তারা যেন বাস্তবায়নের কাজে এগিয়ে যান। পাশাপাশি সে কাজে কি কি অসুবিধা হতে পারে সেটা আগামী সভায় আলোচনা হবে।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ২য় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তার সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, সুরক্ষা সেবা সচিব মোহাম্মদ শহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাজাহান খান, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কাঞ্চন সভায় ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ টাক্সফোর্সের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা কমাতে ১১১টি সুপারিশ ছিলো। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সেই টাস্কফোর্সের এদিন ২য় সভা হলো। সভায় সবাই তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন কিভাবে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়। এর আগে প্রথম সভায় চারজন সচিবের নেতৃত্বে চারটি কমিটি করে দিয়েছিলাম, কিভাবে এই ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়। তারা আজকে তাদের সুপারিশ দিয়েছে। তাদের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১১১ দফা সুপারিশ ধীরে ধীরে বাস্তবায়নে যাবো। ধীরে যাবো এই কারণে যে কোভিডের কারণে বিশ্বজুড়ে আজ একটা স্থবির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বসে নেই কাজ করছি। আমরা সর্বক্ষেত্রে কাজ করছি বলেই আমাদের সবকিছু চলছে। তারপরও কোভিডের জন্য আমরা অনেক কিছু থেকে পিছিয়ে পড়েছি। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য আগামী সভায় সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কিভাবে কাজ করতে পারি সেটি নিয়ে আলোচনা হবে।

সুপারিশগুলো কি ছিলো জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ১১১ দফা সুপারিশ রয়েছে। এটা বাস্তবায়ই আমাদের লক্ষ্য এজন্য চারজন সচিব কাজ করে যাচ্ছেন। তবে সুপারিশের বিষয়গুলো আগামী সভায় জানানো হবে। 

সুপারিশগুলো কিভাবে বাস্তবায়নে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সভায় যে প্রস্তাবগুলো আসছে সেগুলোর কোনটা স্বল্পমেয়াদি, কোনটা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি। এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। বিস্তারিতভাবে কাজ করার জন্য চারটি কমিটি রয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা যে রিপোর্ট পেয়েছি তার অনেকগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা বসে নেই কোভিডের জন্য ধীরগতিতে আছি। 

সুপারিশ বাস্তবায়নে বেশি সময় নেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বেশি সময় নিই না। ২০১৯ সালের শুরু দিকে এই কমিটি হয়েছিলো। কমিটি হওয়ার পরই সভা করেছি। সেখানে চারটি কমিটি করেছি। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে আমাদের করণীয় কি? তারা সেই করণীয় সম্পর্কে আজকে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি যেখানে যেটা প্রয়োজন সেটা করছি এবং বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা নেবো। সেখানে প্রধানমন্ত্রীরও কতগুলো দিক-নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের আইন রয়েছে সেই আইনেও বিধিমালা কিছু পাস হয়েছে। সেসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবো।

১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কবে নাগাদ যেতে পারবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবায়নের কথা বললে আপনারা দেখবেন এখন কেউ মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চড়ে না। এ ধরনের অনেক সুপারিশ আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নে যাচ্ছি। আমরা আরও তড়িৎগতিতে কিভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।