।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।। 

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই নামে সরকারের অনুমোদন পাওয়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই জানিয়ে বুধবার ‘অস্তিত্ববিহীন’ এই প্রতিষ্ঠানের ‘অবৈধ কার্যক্রম’ বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বলে বিষয়টি ইউজিসির নজরে আসে।

প্রতিটি পদের জন্য আবেদনের সঙ্গে অফেরতযোগ্য ৫০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট চাওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, “বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সম্পর্কে কমিশন অবগত নয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামক কোনো প্রকল্প প্রস্তাবও ইউজিসিতে প্রেরণ করা হয়নি।

“অস্তিত্ববিহীন এ প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চেয়েছে ইউজিসি। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ বি এম শরিফুজ্জামান শাহের নামে সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের কথা বলা হয়।

ইউজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীমের নাম ব্যবহার করেছে।

“বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সংবাদ, জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিসহ বিভিন্ন বিষয় ইউজিসির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ ও চাকরি প্রত্যাশীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে সর্তক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ইউজিসি।”

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রয়োজনে ইউজিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগামের তালিকা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

কমিশন বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেন।

“কাজেই এসব পদে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাউকে নিয়োগ দিলে তা হবে সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থি। এছাড়া উপাচার্যবিহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রদত্ত সাটিফিকেটও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।”